প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক কেবল কৃষক সমাজের নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের এক অবিসংবাদিত নেতা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি তার মমতা এবং রাজনৈতিক আপসহীনতা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। সোমবার (২৭ এপ্রিল) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃবিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ যে কজন ক্ষণজন্মা নেতা পেয়েছেন, তাদের অন্যতম শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
লাহোর প্রস্তাবের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ নিয়ে এখনো বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসবিদদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা বিদ্যমান। তার বিচক্ষণ এবং বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।
এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিই প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি বাংলার কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দূরদর্শিতা এবং অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কৃষক সমাজের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোয় নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পথ সুগম করেন।
শেষে তিনি আরও বলেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতাই ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান তথা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি ছিলেন সকল মানুষের নেতা। তার সংবেদনশীলতা, মমতা এবং রাজনৈতিক আপসহীনতা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শন এখনও আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক। এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি আল্লাহর দরবারে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
/কহু