দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প সেবা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ৫০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতালের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে শুধু হাসপাতাল বাড়ালেই হবে না বরং মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো জরুরি। এ কারণে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, সুস্থ জনগোষ্ঠীই অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় দুই দশক আগে অনুমোদিত যশোরের এই হাসপাতাল প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর আবারও বাস্তবায়নের পথে ফিরেছে। ১০ তলাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল নির্মাণে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের নতুন কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে দুইটি বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে- একদিকে হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামো বাড়ানো, অন্যদিকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের বড় অংশই নারী হবেন। তারা সরাসরি মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর কাজ করবেন।
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যার মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, একজন চিকিৎসকের ওপর রোগীর সংখ্যা কমানো গেলে সেবার মান বাড়বে এবং রোগীরা বেশি সময় ও মনোযোগ পাবেন।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করে খরচ সরকার বহন করবে, ফলে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এএডি/