প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ছবি : সংগৃহীতবিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বিখ্যাত শুধু বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ দিয়ে নয় , জিয়াউর রহমান বিখ্যাত বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়ে। কারণ গণতন্ত্রের মানে হিউম্যান ডেমোক্রেসির একটা অন্যতম আবেদন আছে। আমি আমার পাশের লোককে, তার মতামতকে সহ্য করবো, দূরের মানুষের মতামতকে সহ্য করবো এবং অন্য মানুষকে ক্রিটিসাইজ করার আমার অধিকার আছে, ওই লোকদের আমাকে ক্রিটিসাইজ করার অধিকার আছে। এইভাবে উদারতা তৈরি হয়।’
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্ম ও জীবন নিয়ে ‘কমল কুড়ি’ আয়োজনে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ: আত্মপরিচয়ের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদের একটা শত্রু মিত্র আছে। এর যেমন বন্ধু পক্ষ আছে, শত্রুপক্ষও আছে। আপনি যদি নিজের দেশ সম্পর্কে আপনার বেশি অহংকার থাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার শত্রুপক্ষ দাঁড়িয়ে যাবে। যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঈর্ষণীয় উচ্চতায় তার যে দেশপ্রেম এই দেশপ্রেমের কারণেই তিনি একজন মহান জাতীয়তাবাদী আর মহান জাতীয়তাবাদী হওয়ার কারণেই তার শত্রু পক্ষ বেড়ে গেল। দেশপ্রেমটা তো হচ্ছে জাতীয়তাবাদীরই একটা অঙ্গ, জাতীয়তাবাদীরই একটা রূপ।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতির সবচাইতে বড় বিষয় যেটা সেটা হচ্ছে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের ধারক এবং বাহক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন মেজর হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি যদি অসীম মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন তাহলে হয়তো আমাদের স্বাধীনতা বিলম্বিত হতো আরো অনেকটুকু সময়। আমরা বলি আমরা সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সবার আগে কিন্তু সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। খুব স্বল্প সময়ে তিনি সেটি বাস্তবায়ন করেছিলেন, বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত করেছিলেন।’
“পশ্চিমা বিশ্ব, জাতিসংঘ প্রতিটি জায়গায় বাংলাদেশকে শক্ত একটা অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য স্থাপন করেছিলেন সার্ক। সেই ধারাবাহিকতায় জনাব তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচালনায় বিএনপির যে স্লোগান বলেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ তার মানে আমাদের বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের স্বার্থ, জনগণের ক্ষমতা সেটি তো বিএনপির রাজনীতি। আমরা কোন নির্দিষ্ট দেশের আনুকূল্য চাই না ,আমরা কোন নির্দিষ্ট দেশের আধিপত্য চাই না। আমাদের একটাই বিশ্বাস রাষ্ট্র ক্ষমতার উৎস হতে হবে জনগণ। সে জনগণের ক্ষমতায়নের জন্যই কিন্তু বিএনপির রাজনীতি এবং যার কারণেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে।”
তিনি বলেন, বিএনপির যে ইতিহাস সেটি প্রতিবার বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সাথে জড়িত। আমরা দেখেছি বাকশালের পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই গণতন্ত্র শুরু করেছিল। ঠিক একইভাবে স্বৈরাচারের পর আমরা দেখেছি সংসদীয় গণতন্ত্র শুরু হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। একইভাবে ফ্যাসিবাদের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারো কিন্তু গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। পথ চলা শুরু করেছে। আমাদের সবার নেতা, গণমানুষের নেতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাত ধরে বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল যেটি প্রতিবার নারীর ক্ষমতায়ন করেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে অনেক অপপ্রচার রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের নেতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন যে জুলাই সনদে বিএনপির যে অবস্থান, নোট অফ ডিসেন্ট সহযোগে যে বিষয়ে যেভাবে সিগনেচার করেছে ইনশাআল্লাহ তার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বিএনপির রাজনীতি কোন খেল প্রতিশ্রুতি না। যতটুকু পারবে ততটুকু বলা হচ্ছে এবং ততটুকু অবশ্যই গণ মানুষের সমর্থনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবন, তার বেড়ে ওঠা, তার কর্মময় জীবন, পারিবারিক জীবন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার আছে। আমরা দীর্ঘ সতেরো বছর পরে আন্দোলন সংগ্রামের পরে একটা গণতান্ত্রিক ধারায় দেশটাকে নিয়ে এসেছি। এখন পর্যন্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন কর্নার থেকে গণতন্ত্রকে আবার ব্যাহত করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণেই আজকের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মূলত বুঝতে হবে যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন তিনি সেনাবাহিনীর লোক হওয়া সত্ত্বেও, তিনি রাজনীতিবিদ প্রাথমিকভাবে না হওয়া সত্ত্বেও তিনি মনে করেছিলেন রাজনীতি ছাড়া এই দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেওয়া যাবে না। রাজনীতি ছাড়া এই দেশটাকে বাঁচানো যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে যারা স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সুবিধাভোগী হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা রাজনীতিটাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। রাজনীতি থেকে জনগণকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণে আমরা দেখেছিলাম এই দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছিল। এই দেশের মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল। এদেশের উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এদেশের মৌলিক অধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়েছিল। তাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এই দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতার দায়িত্ব দেয়ার পর থেকেই তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন রাজনীতিটাকে কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় এবং রাজনীতিটাকে ফিরে আনতে হলে গণতন্ত্রটাকে কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায়। এটাই বাস্তব কথা যে তিনি এই দেশে গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি রাজনীতিটাকে আবার রাজনীতিবিদদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই কারণেই তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন সেই জনপ্রিয়তা এখনো আকাশচুম্বী এখনো তার জনপ্রিয়তাকে তার ধারে কাছে কেউ যেতে পারে নাই।’
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সময়ে মনে হয়েছিল নির্বাচনের পর আর এ দেশে ষড়যন্ত্র থাকবে না, সবাই যার যার পথে ফিরে যাবে। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনের যে সকল নেতৃবৃন্দ রয়েছে সবাই পড়াশোনার পাশাপাশি এই বাংলাদেশকে আরো কিভাবে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং আমাদের নিজেদের মাঝে সকল বিবেক ভুলে আমরা একটা সম্প্রীতিমূলক পরিবেশ ক্যাম্পাস গুলোতে দেখতে পাব। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে ষড়যন্ত্রের মাত্রা আরো দ্বিগুণ পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে বিবেক এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি যে অল্প সময়ে যে দুই হাজারের অধিক ছাত্র জনতা শহীদ হলো তাদের একজনের বিচার আমরা সুনিশ্চিত করতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘বিগত দেড়টি বছর যে সকল ছাত্রলীগের, যুবলীগের, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কারাগারে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছিল তাদের অধিকাংশ ইতিমধ্যে জামিন পেয়ে গেছে। ইতিমধ্যে যারা পালিয়ে গিয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এই বাংলাদেশে বসে তারা আবার ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করছে এবং আমাদের মাঝে যে বিভেদ তৈরি হচ্ছে সেই বিভেদের সুযোগে তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে যে খুব বেশি সময় নয় তারা আবারো এ দেশের পুনর্বাসিত হবে।’
সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় রয়েছে, আমরা ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসি। সোশ্যাল মিডিয়ার যে অব্যাহত প্রোপাগান্ডা, নোংরামি, চরিত্র হরণ, অশ্লীলতাসহ আমরা যে অপরাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছি দয়া করে আমরা আমাদের এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসি।’
এ সময় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক আবদুল হাই সিকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবাসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এএডি/