লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়কে মেঘনার জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে পরিচালিত এই মেরামত কাজকে ‘লোক দেখানো’ এবং ‘সরকারি অর্থের অপচয়’ বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নামমাত্র উপকরণ দিয়ে কাজ করায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি আবারও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনার তীব্র জোয়ারের চাপ মোকাবিলায় যেখানে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে চিকন লাকড়ির মতো খুঁটি ও ড্রামের প্ল্যানশিট। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রকার ইঞ্জিনিয়ারিং মানদণ্ড না মেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মর্জিমাফিক নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। ভারী বোল্ডার বা জিওব্যাগ ফেলে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার পরিবর্তে ভাঙন ঠেকানোর এই দুর্বল প্রচেষ্টাকে অনেকেই ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দিন আগে কাজ শুরু হলেও তারা কেবল দায়সারাভাবে চিকন কিছু খুঁটি আর ডামসেট বসিয়েছে। জোয়ারের পানি এলেই এসব ভেসে যাবে। সাইটে কোনো ইঞ্জিনিয়ার নেই, কেউ দেখার নেই। তারা শুধু সরকারি বাজেট পকেটে ভরার ধান্দায় আছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংস্কার চলাকালীন সওজ-এর কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদার দায়মুক্তভাবে নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, যা জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।
কাজের মান ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কমলনগর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. মেহেদী হাসান এক অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি বলেন, মতিরহাট এলাকায় যা কাজ হয়েছে, তা বরাদ্দের চেয়েও বেশি করা হয়েছে। তবে ওই এলাকার সুরক্ষায় আরও বড় বাজেট প্রয়োজন।
মাঠপর্যায়ে কাজের এই নাজুক দশা সত্ত্বেও 'বরাদ্দের চেয়ে বেশি কাজ' হওয়ার এমন দাবিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দুর্নীতির আড়াল করার চেষ্টা বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত কার্যকর ও টেকসই সংস্কার না হলে আসন্ন বর্ষায় সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই