ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপকে তেল ও গ্যাস আমদানিতে অতিরিক্ত ২৭ বিলিয়ন ইউরো (৩২ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করতে হয়েছে। সোমবার বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত চার বছরে ইউরোপ দ্বিতীয়বারের মতো গুরুতর জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং এ থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। খবর আনাদুলু এজেন্সির।
তিনি বলেন, ২০২২ সালে (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট) পুতিন আমাদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর এখন সমস্যা হচ্ছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। আমাদের এই নির্ভরতা কমাতে হবে।
ভন ডার লিয়েন আরও বলেন, জ্বালানির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং ছোট আকারের মডুলার রিঅ্যাক্টরসহ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তিনি যোগ করেন, এখানেই উৎপাদিত প্রতিটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা শক্তি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাশ্রয়ী জ্বালানি এবং ইউরোপের স্বনির্ভরতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া তিনি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য বর্তমান সময়কে ‘খুবই অপরিপক্ক’ বলে অভিহিত করেছেন।
জার্মানির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল সিডিইউ এবং তাদের বাভারিয়ান সহযোগী দল সিএসইউর এক যৌথ সভায় অংশ নিয়ে ফন ডার লিয়েন বলেন, আমরা মনে করি এ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াটা হবে অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ইরানের নাগরিকদের ওপর দেশটির সরকারের কঠোর দমনপীড়নের কারণেই মূলত এ নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে আমাদের অবশ্যই ইরানে একটি মৌলিক এবং দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের এ শীর্ষ কর্মকর্তার এমন বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির বড় ধরনের কোনো সংস্কার ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলো তাদের কঠোর অবস্থান থেকে পিছু হটছে না।