উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শেষ ভাগে এসে পৌঁছেছে। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে রাতে মুখোমুখি হবে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি ও জার্মান পাওয়ার হাউস বায়ার্ন মিউনিখ। লিগ ওয়ানের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেগ পাওয়া এবং লিগপর্বে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে পিএসজির। ২০২৪-২৫ মৌসুমের সেই অপ্রতিরোধ্য পিএসজিকে এবার সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। তবে লুইস এনরিকের শিষ্যরা ইদানীং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে বেশ ভালোভাবেই।
চেলসি ও লিভারপুলের বিপক্ষে টানা চারটি জয় তুলে নিয়ে তারা এ মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরা সময় পার করছে। এই যাত্রায় তারা প্রতিপক্ষের জালে ১২টি গোল করে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পা রেখেছে। এনরিকের অধীনে লিভারপুলের বিপক্ষে টানা দুটি ২-০ ব্যবধানের জয় ফরাসি ফুটবলে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে উসমান ডেম্বেলের জোড়া গোল লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশাকে ধূলিসাৎ করে দেয়। এখন পিএসজির সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি, প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০০টি ম্যাচ জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। টুর্নামেন্টের বর্তমান ফরম্যাটে তাদের প্রথম জয়টি এসেছিল ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে এই বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষেই।
ঘরোয়া লিগে লিওঁর কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে কিছুটা ধাক্কা খেলেও পিএসজি দ্রুতই ছন্দে ফিরেছে। নান্তেস এবং সবশেষ অ্যাঙ্গার্সের বিপক্ষে টানা ৩-০ ব্যবধানের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা পিএসজি এখন দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে। হাতে থাকা চার ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি জিতলেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ ইতিমধ্যেই বুন্দেসলিগা শিরোপা নিজেদের পকেটে পুরে নিয়েছে।
গত ১৯ এপ্রিল স্টুটগার্টকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল যখন আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যাম্পিয়ন হলো, তখন তাদের উদযাপন ছিল বেশ সাদামাটা। বায়ার্নের জন্য লিগ জয় অনেকটা নিয়মিত অভ্যাসের মতো হয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিছুটা হতাশাজনক। ২০২০ সালের সেই করোনাকালের ফাইনালের পর থেকে তারা ইউরোপসেরার মুকুট আর পরতে পারেনি। এর মধ্যে চারবার কোয়ার্টার ফাইনাল এবং একবার সেমিফাইনাল থেকে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে।
লিভারপুল ম্যাচে ইনজুরিতে পড়া ডি জায়ার ডু এবং নুনো মেন্ডেস সুস্থ হয়ে স্কোয়াডে ফিরেছেন, যা পিএসজি শিবিরে স্বস্তি এনেছে। তবে মাঝমাঠের সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।