ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলে মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে অর্পিতা পালের দল। প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সিতে বড় মঞ্চে নেমে সেখানে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এমন সাফল্যের নেপথ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নেওয়া যুগান্তকারী ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতাকে উল্লেখ করেছেন হকি দলের অধিনায়ক অর্পিতা।
এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার আগ মুহূর্তে ক্রীড়া ভাতায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ নারী হকি দল। গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে ব্রোঞ্জ জেতায় ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন অর্পিতা, তন্বী, কনা, রাত্রিরা। এই দলটিই বয়সভিত্তিক থেকে জাতীয় দলে প্রবেশের পরও নিজেদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিচে নামতে দেয়নি বরং এশিয়া কাপের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের আরও উচ্চ আসনে অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে নিয়ে গেছে। শক্তিশালী চাইনিজ তাইপে, উজবেকিস্তান এবং হংকং চায়নাকে পেছনে ফেলে গ্রুপপর্বে সেরা হয়ে জায়গা করে নিয়েছে সেমিফাইনালে।
ক্রীড়া ভাতায় প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন হকির মেয়েরা। চার মাস ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চলবে। তবে পারফরম্যান্সের উন্নতি হলে ভাতা বন্ধ হবে না। এখানেই নিজেদের অনেক দূর এগিয়ে নিল হকির মেয়েরা। আগামী ৪ মাসের ভাতা তো নিশ্চিত হলোই, সেই সঙ্গে এশিয়ান গেমসের মূলপর্বে যাওয়াতে ভাতা কার্যক্রমের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে নিল।
এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে আজ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নামবে অর্পিতার দল। ম্যাচটি সামনে রেখে গতকাল ইন্দোনেশিয়ায় ঘাম ঝরানো অনুশীলন করেছেন তারা। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা হয় অর্পিতার। ক্রীড়া ভাতা তাদের জীবনে কতটুকু পরিবর্তন এনেছে? বাছাইপর্বে ভালো করার রহস্য কী? এমন সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
বাছাইপর্বে ভালো করার পেছনে নিজেদের পরিশ্রম, কোচদের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন, ফেডারেশনের সহযোগিতার পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূয়সী প্রশংসা করেন অর্পিতা। তিনি জানান, ক্রীড়া ভাতা আমাদের জীবন সত্যিকার অর্থেই বদলে দিয়েছে। আমাদের জীবনমানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমরা নিরাপদ এবং স্বস্তির জীবন পেয়েছি।
আগে সবাই বলত, হকি খেলে জীবনে কী করবি। পরিবার, আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে দুয়ো শুনতে হতো। কিন্তু যেদিন ক্রীড়া ভাতা আমাদের জীবনে এলো, সেদিন থেকে সবার প্রশংসা পাচ্ছি। আমাদের দেখে নতুন মেয়েরাও হকি খেলায় উৎসাহিত হচ্ছে। অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাই। ওনারা আমাদের জীবন সত্যিই বদলে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা হয় অর্পিতার কোচ জাহিদ হোসেন রাজুর সঙ্গে। ইন্দোনেশিয়া থেকে মোবাইল ফোনে সময়ের আলোকে রাজু জানান, মেয়েরা ভালো পারফরম্যান্স করছে। আমি মনে করি এর পেছনে ক্রীড়া ভাতা, ক্রীড়া কার্ড দারুণ ভূমিকা রেখেছে। মেয়েরা ইন্দোনেশিয়াতে খেলতে আসার আগেই ভাতায় যুক্ত হয়েছে। ওরা জানে পারফরম্যান্স করতে পারলে সরকারের টাকা পাবে, না করলে চার মাস পরেই তা বন্ধ হয়ে যাবে। ক্রীড়া ভাতা ওদের মধ্যে প্রতিযোগিতার নেশা তৈরি করেছে। যার প্রমাণ আপনারা দেখছেন।
আর্থিক নিরাপত্তা পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াকেও যে এগিয়ে নিতে পারে, অর্পিতাদের ক্রীড়া ভাতাপ্রাপ্তি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।