প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় নাক দিয়ে পানি পড়া, অনবরত হাঁচি, চোখ লাল হওয়া বা ত্বকে চুলকানির মতো অস্বস্তিকর সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সিজনাল অ্যালার্জি’ বা ‘হে ফিভার’। বাতাসে ভাসমান ফুলের রেণু, ধূলিকণা কিংবা ছত্রাকের বিস্তারের কারণে মূলত এই সমস্যা দেখা দেয়। সবসময় অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধের ওপর নির্ভর না করে কিছু কার্যকরী ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন নাকের বন্ধভাব দূর করতে এবং শ্বাসনালিতে জমে থাকা মিউকাস পরিষ্কার করতে সবচেয়ে প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি। একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ৫-১০ মিনিট ভাপ নিন। চাইলে এতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল মেশাতে পারেন, এতে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মধু নিয়মিত খেলে শরীর ধীরে ধীরে পরিবেশের অ্যালার্জেনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। প্রতিদিন সকালে এক চা-চামচ মধু সরাসরি অথবা হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন। মধু প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টি-অ্যালার্জিক হিসেবে কাজ করে।
আদাতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান যা গলার খুশখুশে ভাব এবং সাইনাসের প্রদাহ কমায়। অন্যদিকে পুদিনা পাতায় থাকা ‘মেন্থল’ ডিকনজেস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে। দিনে অন্তত দুবার আদা চা বা পুদিনা চা পান করলে শ্বাসপ্রশ্বাসে আরাম পাওয়া যায়। এক কাপ গরম পানিতে আদা ও তুলসী দিয়ে চা বানিয়ে দিনে ১ -২ বার পান করুন।
অ্যালার্জির কারণে শরীরে যে টক্সিন তৈরি হয়, তা দূর করতে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার বেশ কার্যকর। এটি লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে পরিষ্কার রাখে। এক গ্লাস গরম জলে এক চামচ ভিনেগার ও সামান্য মধু মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
অ্যালার্জির সঙ্গে আমাদের পাকস্থলী বা গুট হেলথের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। টকদই বা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা প্রকারান্তরে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন কমিয়ে দেয়।
অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি
সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানি দিয়ে বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ধুয়ে নিন। ঘর পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত বিছানার চাদর ধোয়া এবং বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করলে অ্যালার্জি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
বাইরে থেকে ফিরলে জামাকাপড় বদলে গোসল করে নেওয়া উচিত, যাতে শরীরে লেগে থাকা রেণু বা ধূলিকণা ঘরে না ছড়ায়।
নাসিকা পথ পরিষ্কার রাখতে বিশেষ পাত্র বা সাধারণ লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করতে পারেন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মিউকাস পাতলা থাকে, ফলে নাক বন্ধ হওয়া কমে এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
পাতিলেবু, কমলা বা আমলকীর মতো ভিটামিন-‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-হিস্টামিন হিসেবে কাজ করে।
ঘরোয়া প্রতিকার সাধারণ অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সহায়ক। তবে যদি শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় বা সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।