দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন উৎপাদনের চূড়ান্ত অপেক্ষায়। সম্প্রতি প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের জন্য ‘ফুয়েল লোডিং’ বা পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। চলতি মাসেই এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে— আসলে কী এই ফুয়েল লোডিং এবং এর মাধ্যমে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল চালিকাশক্তি হলো ইউরেনিয়াম। ফুয়েল লোডিং হলো এমন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যেখানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি ইউরেনিয়াম রডগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর বা চুল্লির ভেতরে স্থাপন করা হয়। এটি কোনো সাধারণ জ্বালানি ভরা নয়; বরং অত্যন্ত উচ্চপ্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে এই জ্বালানি সাজানো হয়। রূপপুর প্রকল্পে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর শুরু হয় ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ বা বিভাজন প্রক্রিয়া। এতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস ভেঙে প্রচুর পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। সেই তাপ ব্যবহার করে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করা হয়, যা বিশাল সব টারবাইন ঘোরাতে সাহায্য করে। আর এই টারবাইন ঘোরার মাধ্যমেই তৈরি হয় বিদ্যুৎ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুয়েল লোডিংয়ের পরপরই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় না। এটি মূলত একটি পাইলট অপারেশন বা পরীক্ষামূলক ধাপ। জ্বালানি স্থাপনের পর কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা চালানো হয়। এই সময়ে রিঅ্যাক্টরটির সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় এবং দেখা হয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না। সবকিছু সফল হলে তবেই কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি পায়।
একবার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি টানা ১৮ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। এরপর সামান্য বিরতি দিয়ে পুনরায় জ্বালানি পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ শেষে আবারও নতুন সাইকেলে উৎপাদন শুরু হয়। রূপপুর প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ বছরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। তবে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে এই প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর পর্যবেক্ষণ অনুসরণ করা হচ্ছে।
/কহু