মেটা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি আরও উন্নত করার লক্ষ্যে এবার কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় কর্মীরা কী লিখছেন, কোন অ্যাপে কী কাজ করছেন, এমনকি মাউস ক্লিক বা কিবোর্ড ব্যবহার—সব ধরনের ডিজিটাল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নজরদারি মূলত একটি নতুন টুলের মাধ্যমে করা হবে, যা মেটার অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কর্মীরা প্রতিদিন কাজের সময় কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন, কোন ধরণের কাজ বেশি করছেন, এবং কাজের ধারা কেমন—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তা এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে।
মেটার যুক্তি অনুযায়ী, উন্নত এআই তৈরি করতে হলে বাস্তব জীবনে মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে তার বিস্তারিত উদাহরণ প্রয়োজন। তাই কর্মীদের কাজের আচরণ থেকে পাওয়া তথ্যকে “ট্রেনিং ডেটা” হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতের এআই সিস্টেমকে আরও স্মার্ট ও কার্যকর করা হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ সিস্টেম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে কর্মীদের ডিজিটাল কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে লগ বা রেকর্ড করা হবে। পরে সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে বোঝা হবে—মানুষ কীভাবে সমস্যার সমাধান করে, কোন ধরনের কাজ কত সময় নেয়, এবং কোন প্রক্রিয়ায় কাজ করলে এআই আরও ভালোভাবে শিখতে পারে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিছু কর্মী মনে করছেন, এভাবে প্রতিটি কাজ ট্র্যাক করা হলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কমে যেতে পারে এবং কাজের পরিবেশ অতিরিক্ত চাপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যখন কোম্পানিতে আগেই একাধিক দফায় ছাঁটাই হয়েছে এবং নতুন নিয়োগও সীমিত, তখন এই নজরদারি অনেকের কাছে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, মেটার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—এই ডেটা শুধুমাত্র এআই উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোম্পানির দাবি, কর্মীদের শনাক্তযোগ্য তথ্য আলাদা করে রাখা হবে এবং ডেটা বিশ্লেষণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা যায়, আগে থেকেই সীমিত আকারে কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তবে এবার সেটিকে আরও বিস্তৃত ও সংগঠিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে এআই প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা করে ডেটা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
এদিকে মেটার নেতৃত্ব, বিশেষ করে সিইও মার্ক জাকারবার্গ, দীর্ঘদিন ধরেই এআইকে কোম্পানির ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন। কোম্পানি এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে এবং লক্ষ্য হচ্ছে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যা জটিল কাজগুলোকে আরও দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেটা ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন এআই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে এবং নিজস্ব গবেষণা ল্যাবও শক্তিশালী করছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংগৃহীত কর্মী-ডেটা ভবিষ্যতের এআই মডেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যেখানে একজন মানুষকে সহায়তা করে অনেক বড় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মেটার এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন এআই উন্নয়নের নতুন দিক খুলছে, অন্যদিকে কর্মীদের গোপনীয়তা ও কাজের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করছে।
/ইউএমএইচ