‘সৎ বাবাও আমাকে অনেক সাপোর্ট করেন’

মামুন হোসেন

খেলা

হকিতে আইরিন আক্তার রিয়ার শুরুটা বেশি দিনের নয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হন ঝিনাইদহের এই মেয়ে। মাত্র

2026-04-29T01:44:27+00:00
2026-04-29T01:44:27+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
‘সৎ বাবাও আমাকে অনেক সাপোর্ট করেন’
মামুন হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৪ এএম 
আইরিন আক্তার রিয়া। ছবি : সংগৃহীত
হকিতে আইরিন আক্তার রিয়ার শুরুটা বেশি দিনের নয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হন ঝিনাইদহের এই মেয়ে। মাত্র পাঁচ বছরে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ১৮’তে পা রাখা এ তরুণী। ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে ব্রোঞ্জ জেতার মধ্য দিয়ে হকিতে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেন এ ফরোয়ার্ড। গতকাল তো ইতিহাসই রচনা করলেন। এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে দলকে তোলেন ফাইনালে। রিয়ার হ্যাটটিকে এ ইতিহাস গড়া জয় পায় বাংলাদেশ।

চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান হকি বাছাইপর্ব শুরু করেন রিয়ারা। প্রথম ম্যাচেই গোলের দেখা পান। পরের ম্যাচে আবারও গোল। এবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই গোল। তৃতীয় ম্যাচে অবশ্য হংকং চায়নার বিপক্ষে গোল পাননি। তবে দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করায় মনে জেদ ছিল, শেষ চারে নিজের সেরাটা দেওয়ার। মনের ইচ্ছার প্রতিফলন মাঠের পারফরম্যান্সে দিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে। সামনে ফাইনাল। সেখানেও নিজের সেরাটা দিতে চান, দলকে ট্রফি জেতাতে চান রিয়া।

এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম রিয়ার। এ হকি খেলোয়াড়ের বয়স যখন তিন, তখন তার বাবা পৃথিবীর মায়া ছাড়েন। অসহায় রিয়ার মা তখন নতুন সংসার বাঁধেন। তবে নতুন সংসারে অর্থকষ্ট থাকলেও, ভালোবাসার কমতি ছিল না। রিয়ার সৎ বাবা কখনো রিয়াকে পরের মেয়ে নয় বরং নিজের মেয়ের মতোই মানুষ করেছেন, স্নেহ-ভালোবাসা দিয়েছেন, এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। মায়ের মতো নতুন বাবাকে ভীষণ ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন রিয়া। খেলার সঙ্গে বাবার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও, খেলাধুলা পছন্দ করেন তিনি। পরিবারের উৎসাহেই হকিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

বাবার সঙ্গে খেলার সম্পর্ক না থাকলে রিয়ার মা কিন্তু বেশ ভালোমানের অ্যাথলেট ছিলেন। স্কুলপর্যায়ে সাফল্য ছিল তার। একই অবস্থা ভাইয়েরও। তবে মা-ভাই খেলাধুলায় বেশি দূর নিজেদের নিয়ে যেতে পারেননি। রিয়াই পরিবারের একমাত্র সদস্য যে হকিতে এসে সুনাম কুড়িয়েছেন। এখন আবার ছোট বোনকেও হকিতে নিয়ে এসেছেন। রিয়ার বোন বর্তমানে বিকেএসপির ট্রায়ালে রয়েছে। বোনকে ভবিষ্যতে হকি খেলোয়াড় বানানোর ইচ্ছা রয়েছে।

ঝিনাইদহের ফজর আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সুরাইয়া ম্যাডামের হাত ধরে হকির যাত্রা শুরু রিয়ার। সেখান থেকে আসেন দেশের ক্রীড়ার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিকেএসপিতে। হকির প্রতিথযশা কোচ নান্নু এবং নারী দলের বর্তমান কোচ জাহিদ হোসেন রাজুর হাত ধরে নিজেকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসেন রিয়া। এশিয়ান হকির বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছেন তিনি। এর সব কৃতিত্ব নিজের কোচ, সতীর্থ খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের দিয়েছেন রিয়া। একই সঙ্গে বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অনন্য-অসাধারণ উদ্যোগ ক্রীড়া ভাতাকেও নিজের অগ্রযাত্রায় অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করেন।

হকিতে সাফল্য বয়ে আনলেও নিজ জেলা ঝিনাইদহের লোকরা খুব একটা চেনেন না রিয়াকে। এ নিয়ে আক্ষেপের অন্ত নেই তার। সুদূর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে মোবাইল ফোনে সময়ের আলোকে রিয়া জানান, ফুটবলের মেয়েদের সবাই চেনে, জানে। আমাদের হকির মেয়েরা সেভাবে সবার কাছে পরিচিত নয়। আমি চাই এ অচলায়তন ভাঙতে। একদিন আমরাও হকির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে পরিচিত হব, সবাই এক নামে চিনবে। আর সেদিনই হবে খেলোয়াড় হিসেবে আমার সবচেয়ে আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। হকির বর্তমান দলে থাকা ১৮ জন মেয়েই যোদ্ধা, অদম্য এ নারী দলের এগিয়ে চলায় অনেক প্রতিবন্ধকতা, পরিশ্রম, সততা, চেষ্টা, অধ্যবসায়ে আজ তারা সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছে। সেখান থেকে আর নিচে নামতে চান না রিয়া। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান বহুদূর।



  বিষয়:   হকি  আইরিন  আক্তার  রিয়া 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: