জেদ্দায় অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) জরুরি শীর্ষ সম্মেলনে ওমানের অনুপস্থিতি আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের টোল আদায়ের প্রস্তাব এবং নৌ-চলাচলে বাধার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও ওমান কোনো প্রতিনিধি দল পাঠায়নি।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দর আল-ওতাইবি এই অনুপস্থিতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পুরো অঞ্চল এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শান্তি বা যুদ্ধ কোনোটিই স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে ওমানের অনুপস্থিতি কি দেশটিকে সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়ার ফল, নাকি তারা নিজেরাই যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ওমান ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বেশ কিছু বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে ৫ এপ্রিল দুই দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। ইরান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের একটি প্রক্রিয়া চালু করতে ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। ওমান এই আলোচনার বিস্তারিত জিসিসি সদস্যদের জানাতে পারত, কিন্তু সম্মেলনে তাদের অনুপস্থিতি সেই সুযোগ নষ্ট করেছে।
উল্লেখ্য, জিসিসি নেতারা জেদ্দা সম্মেলনে ইরানের এই টোল আদায়ের প্রচেষ্টাকে ‘অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা হরমুজ প্রণালীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার এবং অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। ওমান কেন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিল না, তা নিয়ে এখনো দেশটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
/কহু