স্বপ্নযাত্রা থামল বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের। এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জেতা হলো না অর্পিতা, রিয়াদের। চাইনিজ তাইপের কাছে গতকাল ফাইনালে ৩-১ গোলে পরাজিত হয় লাল-সবুজের দল। মুহুর্মুহ আক্রমণ, একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিলেও তাইপের কাছ থেকে গোল বের করে আনতে পারেনি জাহিদ হোসেন রাজুর দল। হেরে রানার্স আপে সন্তুষ্ট থাকল দল।
স্বপ্নের মতো এক টুর্নামেন্ট খেলল বাংলাদেশের নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এবারের এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আসরে লাল-সবুজদের লক্ষ্য ছিল ভালো খেলা উপহার দেওয়া। কারণ প্রথমবার কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে, সেখানে বড় কিছুর প্রত্যাশা- আকাশ কুসুম কল্পনাতুল্য। তবে মেয়েরা জাকার্তায় অসম্ভবকেই সম্ভবে পরিণত করেছে। একের পর এক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে।
চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও অনেক কিছু নিয়েই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় পুরস্কার এশিয়ান গেমসের মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়া। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে মূলপর্ব। সেমিফাইনালে পা রাখার মধ্য দিয়ে সেটি আগেই অর্জন করা হয়ে গেছে। মূলপর্বের টিকেটের সঙ্গে একটি ট্রফিও জুটেছে। রানার্স আপের ট্রফি। এটিই জাহিদ হোসেন রাজুর দলের অনেক বড় কৃতিত্ব।
যে দলের বিপক্ষে কাল ফাইনালে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ, সেই চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আসর শুরু করে অর্পিতারা। প্রথম ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে শেষে ৫-৫ গোলের ড্রয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ফাইনালেও এমন কিছু প্রত্যাশা ছিল হকিপ্রেমীদের। মেয়েরা সেই চেষ্টা করেছেও। তবে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায়ে ব্যর্থ হওয়াতে তা আর সম্ভব হয়নি।
গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল উজবেকিস্তান। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি হারলেও বিদায় হয়ে যেত দল। দারুণ খেলে ম্যাচটি ৩-২ গোলে জেতে বাংলার মেয়েরা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি ছিল নকআউট পর্বের যাওয়ার সুযোগ। প্রতিপক্ষ ছিল হংকং চায়না। এখানেও হতাশ করেননি অর্পিতা, রিয়ারা। হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে দল।
সেমিফাইনালে ওঠার পর বাংলাদেশের কোচ-অধিনায়ক দুজনই বলেছিলেন, ‘আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। দলের সেই সামর্থ্য আছে।’ বলা কথা রক্ষা করেছিল অর্পিতারা। সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরকে উড়িয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার পরও কোচ রাজু এবং অধিনায়ক অর্পিতা বলেছিলেন, আমরা সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন করেছি। দল ফাইনালে উঠেছে। এবার আমরা ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে চাই।’ এবার আর শিকে ছেড়েনি। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ।
আসরে অংশ নেওয়ার আগে খুব বেশি অনুশীলন করেনি বাংলাদেশ। বিকেএসপিতে মাত্র দুই/আড়াই মাসের প্রস্তুতি ক্যাম্প করে জাকার্তায় পা রাখে দল। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও ঘাটতি ছিল। বড় কোনো দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেনি। শুধু বিকেএসপিতে নবম শ্রেণির ছাত্রদের সঙ্গে দুয়েকটা অনুশীলন ম্যাচ খেলেছে। অর্পিতাদের প্রস্তুতিপর্ব বলতে এতটুকুই।
যতসামান্য প্রস্তুতি নিয়েও যে এত বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে এসেছে, রানার্স আপ ট্রফি জিতেছে- বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে এত বড় প্রাপ্তির ঘটনা বিরল। বিশেষ করে নারী হকিতে। কারণ মেয়েদের সর্বোচ্চ সাফল্যই বয়সভিত্তিক দলে। গত বছর অনূৃর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ জয়। সেই সাফল্যকে কাল জাতীয় দলের মেয়েরা ছাড়িয়ে গেল। এশিয়ান গেমস হকির বাছাইয়ে রানার্স আপ হয়ে।
/কেএইচও