দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে, অনিশ্চয়তায় ঘেরা ক্যারিয়ার তবু দেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে পিছপা নন সাকিব আল হাসান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। তার মতে, এই সিদ্ধান্তে বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের।
গত ২০ এপ্রিল ব্যক্তিগত কাজে কলকাতায় অবস্থান করেন সাকিব। সে সময় একটি ভারতীয় একটি নিউজ পোর্টালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, আমি মনে করি এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি। বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। আমরা ক্রিকেটপাগল দেশ। আমাদের দেশ বিশ্বকাপে খেলছে না- এটা বড় একটি মিস। আমার মতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত সরকারের অনেক বড় ভুল ছিল।
প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। তবে নিরাপত্তা ইস্যু ও ভেন্যুসংক্রান্ত জটিলতায় অন্তর্বর্তী সরকারের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়, যা এখনও থামেনি।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি সাকিবকে। এরপর দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, মামলার জটিলতা- সব মিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও যেন এক অদৃশ্য অপেক্ষায় আটকে আছে।
তবে ফিরে আসার আশা ছাড়ছেন না এই অলরাউন্ডার। বিদায়ি টেস্ট খেলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা (বিদায়ি টেস্ট) পরে দেখা যাবে। তবে আশা করছি যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। সময় সবকিছুই স্বাভাবিক করে। যা চাই তা-ই পাব আশা করি।
এদিকে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনেও এসেছে পরিবর্তন। নতুনভাবে গঠিত বোর্ড ও নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদী সাকিব। বর্তমান বোর্ডপ্রধান তামিম ইকবালকে ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, আশা করি নির্বাচন হবে এবং সে যদি সভাপতি হয়, তখন তার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে। অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট উপকৃত হবে।
ব্যক্তিগত অনিশ্চয়তার মাঝেও দেশের ক্রিকেট নিয়ে সাকিবের এই খোলামেলা মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সরাসরি সমালোচনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে সেই সময়ের নীতিনির্ধারণ নিয়ে।
/কেএইচও