অনিশ্চয়তার মুখে আলোচনা, যুদ্ধবিরতিতে অচলাবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘দ্রুত বাস্তবতা বোঝার’ তাগাদা দিয়ে এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের

2026-04-30T01:49:40+00:00
2026-04-30T01:49:40+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অনিশ্চয়তার মুখে আলোচনা, যুদ্ধবিরতিতে অচলাবস্থা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘দ্রুত বাস্তবতা বোঝার’ তাগাদা দিয়ে এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা প্রক্রিয়া যখন এক অনিশ্চিত অচলাবস্থায় আটকে গেছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারি এলো।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বুধবার দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান একমত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তিনি লেখেন, তারা জানে না কী করে একটি অ-পারমাণবিক চুক্তিতে সই করতে হয়। তাদের উচিত দ্রুত স্মার্ট হয়ে ওঠা। তবে ঠিক কী ধরনের চুক্তির কথা ভাবছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পোস্টটির সঙ্গে ট্রাম্প একটি ডিজিটাল ছবিও শেয়ার করেছেন। সেখানে কালো সানগ্লাস পরে ও হাতে মেশিনগান নিয়ে তাকে দেখা যাচ্ছে। ছবির ওপর বড় অক্ষরে লেখা ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই!’ অর্থাৎ, ‘ভদ্র সাজার দিন শেষ!’ এ চিত্রবার্তা ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরান কথা বলতে চাইলে ‘ফোন করতে পারে’। পাশাপাশি তেহরান কোনোভাবেই যে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না, সে কথাও জোর দিয়ে বলে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফররত ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজের বক্তব্যেও ট্রাম্প বলেছেন, আমরা কখনোই তাদের পরমাণু অস্ত্র হাতে পেতে দেব না। এ বিষয়ে রাজা চার্লস আমার চেয়েও বেশি একমত।

অবরোধের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তুতি : মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধের পরিধি বাড়াতে প্রস্তুতি নিতে সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন। ফের বোমাবর্ষণ কিংবা সংঘাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির চেয়ে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতি ও তেল রফতানিকে চেপে ধরা অব্যাহত রাখতেই বেশি পছন্দ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ খবরের পরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ইরানের অবস্থান ও পাল্টা দাবি : ইরানের দাবি, শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার যে অধিকার তাদের রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে তার স্বীকৃতি দিতে হবে। দেশটির কাছে বর্তমানে ৪৪০ কেজির মতো ৬০ শতাংশ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ আছে, যা আরও সমৃদ্ধ করা গেলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়ে ফেলা সম্ভব।

ইরানি কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বলেছেন, তারা বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহার করছেন, যে কারণে মার্কিন নৌ অবরোধ তাদের জন্য বড় কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ৫২টি জাহাজ দেশটির জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ ভেঙেছে। এগুলোর মধ্যে ৩১টি তেলবাহী ট্যাংকার ও ২১টি পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলেও মনে করছে না। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ ও সম্পূর্ণরূপে সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জামের মানোন্নয়নও করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, শত্রু যদি আবারও কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের ইরানের নতুন নতুন সামরিক সরঞ্জাম, কৌশল এবং লড়াইয়ের নতুন জায়গায় মোকাবিলা করতে হবে।

আলোচনার জটিলতা : ইরান সর্বশেষ যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে তারা বলেছে, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ও নৌচলাচলসংক্রান্ত ইস্যু সমাধানের পরই তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে। অথচ ট্রাম্পের মূল চাহিদাই হচ্ছে ইরানকে আগে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আনা। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কেবল এমন একটি চুক্তি করবেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে।

যুদ্ধের প্রভাব ও ট্রাম্পের চাপ : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়ার আগেই কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে নৌপথ দিয়ে আগে বিশ্বের তেল-গ্যাসের এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত বিশ্বের জ্বালানি বাজার অস্থির করে তুলেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ 

বাণিজ্যপথে নৌচলাচল বিঘ্নিত করছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রেই ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অজনপ্রিয় এ যুদ্ধের কারণে তার জনপ্রিয়তা দিন দিন কমছে। সর্বশেষ রয়টার্স-ইপসোস জরিপে তার কাজে মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকানের সন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে, যা দিনকয়েক আগে ছিল ৩৬ শতাংশ।

আঞ্চলিক প্রচেষ্টা ও ইসরাইল : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। পরে ট্রাম্প পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অচিরেই ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বৈঠক আয়োজনের অভিপ্রায়ের কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন, তাসনিম নিউজ এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর, গালফ নিউজ, মিডল ইস্ট আই, ফার্স নিউজ এজেন্সি।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   অনিশ্চয়তা  আলোচনা  যুদ্ধবিরতি  অচলাবস্থা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: