পর্দায় নানা চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত অভিনেত্রী তানজিকা আমিন। তবে সম্প্রতি এক আয়োজনে তিনি ভেঙেছেন সেই নীরবতা, শোনালেন তার প্রেম ও সম্পর্কের এক অন্যরকম গল্প-যেখানে সংখ্যার চেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে স্থায়িত্ব আর গভীরতা।
অভিনেত্রীর কথায়, জীবনে খুব বেশি প্রেম আসেনি, কিন্তু যেগুলো এসেছে সেগুলো ছিল দীর্ঘ সময়ের এবং আবেগে ভরপুর। তার মতে, সম্পর্কের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে তার স্থায়িত্ব ও আন্তরিকতার ওপর, সংখ্যার ওপর নয়।
কিশোর বয়সের স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে তিনি জানান, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজশাহীতে শুরু হয়েছিল তার প্রথম প্রেম। চার বছর ধরে চলা সেই সম্পর্কের গল্প যেন একেবারে অন্য যুগের-ল্যান্ডফোনে দীর্ঘ আলাপ, হাতে লেখা চিঠি আর ছোট ছোট চমকে ভরা দিনগুলোই ছিল তাদের ভালোবাসার ভাষা।
আরও পড়ুন
সেই সময়ের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ছিল অদ্ভুত আনন্দ। টিউশনের টাকা বাঁচিয়ে একে অপরকে উপহার দেওয়া কিংবা অল্প টাকায় রেস্টুরেন্টে বসে সময় কাটানো- এসব ছোট ছোট মুহূর্তই হয়ে উঠেছিল বড় সুখের উপলক্ষ।
তবে প্রেমের সেই দিনগুলো ছিল না ঝামেলামুক্ত। ফোন বিল বেশি আসায় পরিবারের বকুনি, এমনকি শাস্তিও পেতে হয়েছে তাকে। তবুও স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে পদ্মার পাড়ে কাটানো সময়গুলো আজও তার মনে গভীর ছাপ ফেলে রেখেছে।
হালকা হাস্যরসের সুরে তিনি আরও জানান, তার সেই প্রথম ভালোবাসার মানুষটি নাকি এখনও বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি- যা শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যেও তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
সব মিলিয়ে, তানজিকা আমিনের এই স্মৃতিচারণ শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের এক ঝলকই নয়, বরং পুরোনো দিনের সরল প্রেমের এক আবেগঘন প্রতিচ্ছবি।
এএডি/