ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) দেওয়া তিন দফা দাবি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা আদায় কর্মসূচি পালন করেছে ডাকসুর নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনার করেন।
কর্মসূচি পালনকালে নেতাকর্মীরা ‘সিট বণ্টনের নীতিমালা দিতে হবে, দিতে হবে’, ‘এক দুই তিন চার আদুভাই সিট ছাড়’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
আলোচনা শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বেশ কিছুদিন আগে সিট নীতিমালা সুনির্দিষ্টকরনের দাবিতে এবং আরো বেশ কয়েকটি দাবি সাথে নিয়ে এসেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে শিক্ষার্থী প্রথম বছর চান্স পান তিনি যেন যথাসময়ে সিট পান, সিট না পেলে তার জন্য যেন আবাসন খরচের নিমিত্তে আবাসন বৃত্তি দেওয়া হয় এবং একই সাথে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল রিএড নেওয়ার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল সে প্রবণতা যাতে না থাকে।’
আরও পড়ুন
জিএস ফরহাদ বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, সেদিন ভিসি স্যার সকল মিডিয়ার উপস্থিতিতে বলেছিলেন, ৩০ তারিখের মধ্যেই উনারা আমাদেরকে আপডেট জানাবেন যে কোন কোন হলে কোন কোন পর্যায়ে কতসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো সিট না পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সিট নিয়ে রয়ে গেছেন। এ তালিকা তিনি আমাদেরকে দিবেন এবং সে অনুযায়ী কি ব্যবস্থা নিবেন সেটা আজকে ব্রিফ করবেন। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে আজকে এসেও আমরা হলগুলোর তালিকা চূড়ান্ত পাইনি যে কোন কোন হলে কোন কোন ছাত্র আছে এবং সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, হলের সিট দেবার জন্য যে সিট প্রণয়ন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দেওয়ার কথা ছিল সেটিও চূড়ান্ত করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চরম বিরোধিতার প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত উপ উপাচার্য (একাডেমিক) এবং ভিসি স্যার দুজনেই বলেছেন আমাদের নীতিমালা প্রস্তাব করতে। আমরা আপাতত মৌখিক প্রস্তাব করেছি। উদ্দেশ্য একটাই যে সেশন বাইন্ডিং যেন থাকে এবং বারবার মাস্টার্সের পরীক্ষায় রিএড নিয়ে হলে সিট নিয়ে থাকার যে প্রবণতা, সেটি বন্ধ হয়ে যায় এবং একই সাথে যেসব শিক্ষার্থীরা হলে রয়েছেন সিট মেয়াদ শেষে তাদের যেন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেওয়ার একটা কালচার শুরু হয় এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী যেন প্রায়োরিটি পায়।’
ডাকসুর পক্ষ থেকে তিন দফা দাবিগুলো হলো- সকল হলের জন্য একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সিট নীতিমালা নিশ্চিত করা; উক্ত নীতির ভিত্তিতে যাদের সিট বাতিল বাতিল হওয়ার কথা তাদের সিট বাতিল করা; কেবল রানিং ও হলের সিট প্রাপ্ত আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান নিশ্চিত করা।
এএডি/