যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর নিচ থেকে ইরান তাদের লুকানো মিসাইল ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের কাজ জোরদার করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযানে ইরানের ব্যালাস্টিক মিসাইল ও ড্রোন কর্মসূচির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে দুই সপ্তাহের জন্য একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, এই বিরতিকালকে ইরান তাদের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, তেহরান খুব দ্রুত তাদের ড্রোন ও মিসাইল শক্তি পুনরায় গুছিয়ে নিতে চাইছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন, তবে যেন ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসের তীব্র সামরিক উত্তেজনার পর এই যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও উভয় দেশের মধ্যে মূল বিরোধের জায়গাগুলো- যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা— এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বর্তমানে চলমান এই সামরিক তৎপরতার খবর দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
/কহু