হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেল জব্দ করা ‘অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা’: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ ও জ্বালানি তেল জব্দের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার সময় অনেকটা ‘জলদস্যুদের মতো’ কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডায় এক জনসমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প সাম্প্রতিক একটি সামরিক অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনী মাঝসমুদ্রে একটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এর পণ্য ও জ্বালানি তেল জব্দ করেছে, যাকে ট্রাম্প একটি লাভজনক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
জনতার করতালির মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা জাহাজটির ওপর চড়াও হলাম এবং এটি আমাদের দখলে নিলাম। আমরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি এবং সব তেল জব্দ করেছি। এটি খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা জলদস্যুদের মতো।
আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতোই কাজ করছি, তবে আমরা কোনো হেলাফেলা করছি না।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই ধরনের তৎপরতাকে আইন বিশেষজ্ঞরা দস্যুবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করছেন এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান কার্যত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ইরান এখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্ট ফি বা মাশুল ধার্য করার পরিকল্পনা করছে।
ইরান ছাড়াও হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী নিজেদের অবরোধ দিচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করে তাদের তেল রফতানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য মূলত ওয়াশিংটনের সেই আগ্রাসী অবরোধ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সরাসরি স্বীকারোক্তি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ইরানের বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তেহরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের সমুদ্রসীমায় কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তার কঠিন জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই ‘জলদস্যু’সুলভ মন্তব্য এবং অবরোধ দীর্ঘায়িত করার ঘোষণা মূলত ১ মে’র সময়সীমার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।