মাছ ধরতে গিয়ে মেলে বৃষ্টির মরদেহ, উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক নিখোঁজ সংবাদটি শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উন্মোচন করেছে। রোববার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক নিখোঁজ সংবাদটি শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উন্মোচন করেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে একজন কায়াক আরোহী কাকতালীয়ভাবে একটি কালো প্লাস্টিক ব্যাগ খুঁজে পান, যার ভেতরে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহাবশেষ পাওয়া যায়।
শুক্রবার (২ মে) হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চাদ ক্রোনিস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধারকৃত দেহটি ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির। এই একই ঘটনায় গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ বৃষ্টির বন্ধু জামিল লিমনের মরদেহও এর আগে উদ্ধার করা হয়েছে। মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর এই করুণ পরিণতিতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শেরিফ চাদ ক্রোনিস্টার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উত্তর সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলে ম্যানগ্রোভ বনের কাছে মাছ ধরার সময় এক ব্যক্তির ফিশিং লাইনটি একটি কালো ব্যাগে আটকে যায়। সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি তীব্র পচনশীল গন্ধ পান এবং ব্যাগের ভেতরে মানবদেহের অস্তিত্ব অনুভব করে পুলিশে খবর দেন।
বৃষ্টির মরদেহটি অত্যন্ত পচনশীল অবস্থায় থাকায় পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা এবং দাঁতের রেকর্ডের সাহায্য নিতে হয়েছে। তবে মরদেহের পরনে থাকা পোশাক নিখোঁজ হওয়ার দিনের বর্ণনার সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। টাম্পা বে নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃষ্টির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল যা এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তাদেরই রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেফতার করেছে। হিশামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং জামিন অযোগ্য ধারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃষ্টি ও তার বন্ধু জামিল।
তদন্তে দেখা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এবং এর পরদিন তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় রিপোর্ট করা হয়। তার ঠিক একদিন পরেই জামিল লিমন নিখোঁজ হন। শেরিফ অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতরা অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আকস্মিকভাবে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াতেই সহপাঠীরা বড় কোনো বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন।
শেরিফ ক্রোনিস্টার এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, যা নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে শুরু হয়েছিল তা এক পৈশাচিক খুনের মাধ্যমে শেষ হলো। পুলিশ বর্তমানে হিশাম আবুঘারবিয়েহর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য মোটিভ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি উভয়েই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের এমন অকাল ও নিষ্ঠুর প্রয়াণ বিদেশের মাটিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য প্রসিকিউটররা ডিজিটাল ফরেনসিক ও ডিএনএ প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে কঠোর সাজার দাবি জানাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।