মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে

2026-05-02T21:00:19+00:00
2026-05-02T21:00:19+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৯:০০ পিএম 
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। ছবি : গালফ নিউজ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে চলমান সামরিক মোতায়েন পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার ফলে এখন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ— অবস্থান করছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড প্রায় ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন ছিল। এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম দীর্ঘতম মোতায়েন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাহাজটি ২০২৫ সালের ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে ইউরোপীয় কমান্ডের অধীনে কাজ করে। পরবর্তীতে এটি লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেয় এবং পরে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এটি অবস্থান করে।

এই দীর্ঘ মোতায়েনের সময় জাহাজটিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ মার্চ জাহাজের লন্ড্রি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, এতে দুইজন নাবিক আহত হন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।


এদিকে, রাজনৈতিক পর্যায়েও উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনা একই সময়ে চলতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে দেওয়া এক চিঠিতে দাবি করেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা এখন শেষ হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি এবং ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে এই সামরিক পদক্ষেপগুলো কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই শুরু হয়েছিল এবং ৬০ দিনের আইনি সময়সীমার প্রসঙ্গও এখানে প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, যুদ্ধ ক্ষমতা রেজোলিউশন অনুযায়ী কংগ্রেসকে অবহিত করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামরিক অভিযান বন্ধ বা অনুমোদন প্রয়োজন হয়, তবে চলমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন সংঘাতের সমাপ্তির ঘোষণা দিচ্ছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানি নেতৃত্ব একক ও সুসংহত অবস্থানে নেই, বরং অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও মতবিরোধের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তাদের ভেতরে সমন্বয় নেই, কে নেতৃত্ব দিচ্ছে সেটাও পরিষ্কার নয়।

তার এই মন্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভক্তি আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলছে এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

একদিকে যেমন মার্কিন নৌবাহিনী তাদের গুরুত্বপূর্ণ রণতরী মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আলোচনার চাপ—দুই দিকেই পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   জেরাল্ড আর ফোর্ড  ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন  ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: