গ্রিসের করিদালোজ কারাগারে গত ১৪ মার্চ মারা যান শরীয়তপুরের বাসিন্দা কামরান দেলোয়ার হোসেন খান। তিনি গ্রিসে অনিয়মিতভাবে বসবাস করছিলেন এবং তার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা নিবন্ধিত পরিচয়পত্র ছিল না। এ কারণে বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহ দেশে পাঠাতে আগ্রহী হলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী ৭ মে গ্রিসেই তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস শনিবার ‘গ্রিসের করিদালোজ জেলখানায় মৃত্যু হওয়া কামরান দেলোয়ার হোসেন খানের মরদেহ দাফন-সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ করিদালোজ কারাগারে কামরান দেলোয়ার হোসেন খান নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার অনুকূলে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো স্বীকৃত নথি না থাকায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
দূতাবাস জানায়, মৃত ব্যক্তি একজন অনথিভুক্ত (আনডকুমেন্টেড) কর্মী ছিলেন এবং তার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদও নিবন্ধিত ছিল না। তবে গ্রিক কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা নথিতে তিনি বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস মরদেহটি গ্রহণ করে।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষরা একসময় শরীয়তপুর জেলায় বসবাস করতেন। তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় যোগাযোগ করে তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে অন্য একটি দেশ থেকে তার ভাই জানান, বাংলাদেশে তাদের কোনো স্বজন নেই। ফলে মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং গ্রিসেই দাফনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে একটি অনাপত্তিপত্র দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিচয় নিশ্চিত না হলে এবং বাংলাদেশি হিসেবে নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া গেলে মরদেহ-সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণে সরকারের বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবু মানবিক কারণে গ্রিক সরকারের তথ্যের ভিত্তিতে দূতাবাস মরদেহটি মুসলিম রীতিতে দাফনের উদ্যোগ নেয়।
দূতাবাস জানায়, এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমোটিনি এলাকায় মুসলিম রীতিতে দাফনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল এবং স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদনসাপেক্ষে তা সম্পন্ন করতে হয়।
এছাড়া সরকারি বরাদ্দের বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বাজেট থেকে কেবল বৈধ (ডকুমেন্টেড) কর্মীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অনথিভুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত হলে মানবিক বিবেচনায় বিশেষ নির্দেশনার ভিত্তিতে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। তবে বিদেশে দাফনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।
কামরান দেলোয়ার হোসেন খানের ক্ষেত্রে তার পরিবার গ্রিসে দাফনের অনুরোধ জানিয়েছে এবং সরকারের কাছে তার কোনো তথ্য না থাকায় এ-সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহের সুযোগ নেই বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে সার্বিক মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং পরিবারের অনুরোধে আগামী ৭ মে তার দাফন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। দূতাবাস জানায়, ভবিষ্যতেও তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সময়ের আলো/আআ