আন্তঃমহাদেশীয় মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার দায়ে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ওই চক্রটি দক্ষিণ ও মধ্য-আমেরিকার বিভিন্ন দেশের পথ ধরে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করতো।
সোমবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ল্যারেডো ফেডারেল কোর্টে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক তদন্তের পর গত ৮ জুলাই ৩৯ বছর বয়সী সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। পরে টেক্সাসের ল্যারেডোর একটি আদালতে প্রথমবারের মতো তাকে হাজির করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী নিয়ে আসার একাধিক অভিযোগ এবং অবৈধ প্রবেশে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের কৌঁসুলিরা বলেছেন, আল-মামুন এমন একটি পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন, যে চক্রটি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের মধ্য-আমেরিকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করতো। এই রুটটি ব্রাজিলের সাঁও পাওলো থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ ও মধ্য-আমেরিকার কয়েকটি দেশ পার হয়ে মেক্সিকো পৌঁছাতো। সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে প্রবেশের জন্য রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হওয়ার চেষ্টার মধ্য দিয়ে শেষ হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, অভিবাসীরা এই যাত্রার সুবিধার জন্য বাংলাদেশের মানব পাচারকারীদের হাজার হাজার ডলার পরিশোধ করতেন। কৌঁসুলিরা বলেছেন, আল-মামুন সাঁও পাওলোতে অভিবাসীদের আবাসনের ব্যবস্থা এবং দক্ষিণ ও মধ্য-আমেরিকার মধ্য দিয়ে তাদের পরবর্তী ভ্রমণের ব্যবস্থা করার দায়িত্বে ছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ মিলন হোসেন নামের অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক মেক্সিকোর তাপাচুলাতে অভিবাসীদের আবাসন ও পরিবহনের বিষয়টি দেখভাল করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মনটেরিতে আবাসনের ব্যবস্থা করতেন এবং কীভাবে রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হতে হবে, সে বিষয়ে অভিবাসীদের নির্দেশনা দিতেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, পাচার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই নদীটি নিরাপদে পার হতে গিয়ে ভয়াবহ জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ মিলন হোসেন এবং মোক্তার হোসেন এই চক্রে তাদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তাদের প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ব্যাপক আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার হন আল-মামুন। ব্রাজিলিয়ান ফেডারেল পুলিশ, এইচএসআই ব্রাসিলিয়া এবং ব্রাজিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্স (এইচএসআই) ফিনিক্স এই তদন্তের নেতৃত্ব দেয়।
বিবৃতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনকে ন্যূনতম বাধ্যতামূলক পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অভিযোগপত্রটি কেবলই একটি অভিযোগ এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আল-মামুনকে নির্দোষ বলে গণ্য করা হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ