রাজধানী ঢাকায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতেও বায়ুদূষণ পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। সাধারণত বৃষ্টি হলে শহরের বায়ুমান কিছুটা উন্নত হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন।
রোববার (৩ মে) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়।
আজ সকালে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৫৫, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকা বায়ুদূষণের কবলে থাকায় বৃষ্টির পরেও এই উচ্চমাত্রার দূষণ নগরবাসীর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইকিউএয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দূষিত শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার বায়ুমানের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৮৯৯। তালিকায় ১৭২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা।
এছাড়া কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা ১৩২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ১১৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন। বায়ুমানের সূচকে সাধারণত স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। এই অবস্থায় ঢাকার বাসিন্দাদের বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বায়ুমানের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ভালো বাতাস বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর মনে করা হয়। কিন্তু স্কোর যখন ১৫১ পেরিয়ে যায়, তখন তা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
এর আগে বায়ুদূষণের দায়ে নারায়ণগঞ্জের দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা থেকে বোঝা যায় কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সাময়িক বৃষ্টি দূষণ কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের জন্য কাঠামোগত পদক্ষেপ জরুরি।
সূচক অনুযায়ী, বায়ুমান ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ এর বেশি হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। খুব অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর ঝুঁকিপূর্ণ সীমানার কাছাকাছি না থাকলেও টানা অস্বাস্থ্যকর অবস্থানে থাকাটা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম শেষ হওয়ার পরও বৃষ্টির প্রভাবে বায়ুস্তর পরিষ্কার না হওয়াটা পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই মুহূর্তে মাস্ক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বহিরাঙ্গন কার্যক্রম এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।