ট্রাম্পের ‘জলদস্যুতার’ বিষয়ে ইরানের কড়া জবাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।রোববার

2026-05-03T10:12:35+00:00
2026-05-03T12:13:23+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের ‘জলদস্যুতার’ বিষয়ে ইরানের কড়া জবাব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:১২ এএম  আপডেট: ০৩.০৫.২০২৬ ১২:১৩ পিএম
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। 

রোববার (৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন মূলত ইরানি জাহাজ আটকের মধ্য দিয়ে তাদের জলদস্যুতামূলক আচরণের বিষয়টিই নিশ্চিত করেছে। 

বাঘাইয়ের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তাদের সামুদ্রিক অভিযানের বেআইনি ও অপরাধমূলক চরিত্র ফুটে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সামুদ্রিক উত্তেজনা নতুন এক মোড় নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইসমাইল বাঘাই লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানি জাহাজ জব্দ করার বিষয়টিকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সঙ্গে দাবি করেছেন যে ‘আমরা জলদস্যুদের মতোই কাজ করি’। 

বাঘাই এই বক্তব্যকে কোনো সাধারণ ভুল হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের একটি প্রত্যক্ষ এবং দালিলিক স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিয়মকানুন ভঙ্গ করছে এবং বৈশ্বিক জলসীমায় নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে ইরানি এই মুখপাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। 

বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের এমন নগ্ন লঙ্ঘনকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন জলসীমানায় ইরানি ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের জাহাজগুলো বৈধ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার বাধা সৃষ্টি করছে। 

অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে, অবরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এই ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে। তবে তেহরান মনে করছে, মার্কিন প্রশাসনের এবারের স্বীকারোক্তি তাদের পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক লড়াইয়ে বড় ধরনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। জলসীমানায় আধিপত্য বিস্তারের এই দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: