বিশ্বের কোনো শক্তির পক্ষেই ইরানি জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে, দেশ এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থার রক্ষায় ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন সংকল্প ও সংহতির প্রশংসা করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শনিবার (২ মে) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিশাল গণসমাবেশ ও সংহতি মিছিলের জন্য জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
বিশেষ করে অষ্টম শিয়া ইমাম, ইমাম রেজা (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশ এবং ‘জানফাদা-ই-ইরান’ (ইরানের জন্য আত্মত্যাগ) অভিযানের কথা উল্লেখ করা হয়। এই অভিযানে ইতিমধ্যে লাখ লাখ ইরানি নাগরিক শত্রুর মোকাবিলায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে স্বাক্ষর করেছেন।
বিবৃতিতে আইআরজিসি ইরানি জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, ইরান এবং এ দেশের মানুষ কখনোই শত্রুর সামনে মাথা নত করবে না এবং কোনো পরাশক্তির পক্ষেই আপনাদের দৃঢ় সংকল্পকে দুর্বল করা সম্ভব নয়। গত ৪০ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর উস্কানিমূলক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানিদের এই অভূতপূর্ব প্রতিরোধকে ‘মহাকাব্যিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাহিনীটি।
এই গণবিক্ষোভ ও সংহতি মূলত বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনির প্রতি জনগণের অবিচল আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। উল্লেখ্য, আগ্রাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি শহীদ হওয়ার পর তিনি নেতৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
আইআরজিসি মনে করে, জনগণের এই সর্বাত্মক অংশগ্রহণ মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং দেশপ্রেমিক প্রতিরক্ষার এক অনন্য প্রদর্শনী। বিশেষ করে গত বুধবার ইমাম রেজা (আ.)-এর জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিগুলো বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের বিচক্ষণতা এবং শত্রুকে চেনার ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক ও মিডিয়া যুদ্ধকে উপেক্ষা করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিরোধ জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আইআরজিসি জনগণকে এই সংহতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা এবং জনগণের এই দৃঢ় সমর্থনই ‘পবিত্র প্রতিরক্ষায়’ চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করবে।
জনগণের এই শক্তির প্রদর্শনকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য শক্তির উৎস হিসেবে বর্ণনা করে আইআরজিসি বলেছে, এই জনসমর্থন তাদের ‘মিসাইলের জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া জাতির এই দৃঢ় অবস্থান দেশের কৌশলগত নীতি ও সিদ্ধান্তগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ‘নতুন ব্যবস্থাপনা’ নিশ্চিত করতে এটি সহায়ক হবে। সম্প্রতি আয়াতুল্লাহ খামেনি এক নির্দেশনায় জানিয়েছিলেন, এই কৌশলগত জলপথটি এমনভাবে পরিচালিত হবে যা শত্রুকে প্রতিহত করার পাশাপাশি দেশের এবং এই অঞ্চলের সমৃদ্ধিতে চূড়ান্ত অবদান রাখবে।
//
সূত্র: প্রেস টিভি
সময়ের আলো/টিএইচ