খরচ কমাতে কর্মীর বদলে এআই ব্যবহার অবৈধ: চীনা আদালতের রায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যাপক প্রসারের মুখে শ্রম অধিকার রক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে চীনের একটি আদালত। রায়ে

2026-05-03T15:54:57+00:00
2026-05-03T15:54:57+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
খরচ কমাতে কর্মীর বদলে এআই ব্যবহার অবৈধ: চীনা আদালতের রায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম 
প্রতীকী ছবি
প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যাপক প্রসারের মুখে শ্রম অধিকার রক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে চীনের একটি আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি শুধুমাত্র খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বা কাজ স্বয়ংক্রিয় করার অজুহাতে দক্ষ কর্মীকে ছাঁটাই করে সেই জায়গায় এআই ব্যবহার করতে পারবে না। 

হাংঝৌ-এর ইন্টারমিডিয়েট গণআদালত সম্প্রতি এক শ্রম বিরোধের মামলায় এই রায় প্রদান করে, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি-চালিত কর্মসংস্থান সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কর্মী প্রতিস্থাপন নয়।

এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ঝৌ পদবীর একজন কর্মী, যিনি একটি প্রযুক্তি সংস্থায় এআই ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের নির্ভুলতা যাচাইয়ের কাজ করতেন। সংস্থাটি দাবি করেছিল যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে ওই কর্মীর বর্তমান পদের আর প্রয়োজন নেই। 

এই যুক্তিতে তারা ঝৌ-কে অন্য পদে বদলি করার চেষ্টা করে এবং তার মাসিক বেতন ২৫ হাজার ইউয়ান থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার ইউয়ানে নামিয়ে আনে। ঝৌ এই বেতন হ্রাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে কোম্পানি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে ঝৌ এই অন্যায্য বরখাস্তের বিরুদ্ধে শ্রম সালিশি ও আদালতের দ্বারস্থ হন।

মামলার বিচার চলাকালীন ইউহাং জেলা আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, এআই কম খরচে কাজ করতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা চীনের শ্রম আইনের কোনো বৈধ ধারার আওতায় পড়ে না। আদালত জানায়, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা দেউলিয়া হওয়ার মতো ‘বস্তুনিষ্ঠ বড় পরিবর্তন’ না ঘটলে কোনো শ্রম চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা যায় না। 

এআই-এর সংকলন একটি সক্রিয় ব্যবসায়িক কৌশল হতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই কর্মীর আইনি অধিকার লঙ্ঘনের হাতিয়ার হতে পারে না। যেহেতু নতুন পদে বেতন অনেক কম ছিল, তাই আদালত এটিকে একটি ‘অযৌক্তিক আলোচনার প্রস্তাব’ হিসেবে গণ্য করে বরখাস্তের আদেশটিকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং কোম্পানিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

হাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট আদালত এই রায় বহাল রেখে জানায়, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কোম্পানির কাঠামোতে পরিবর্তন আনলেও তা শ্রম চুক্তি বাতিলের মতো বাধ্যতামূলক কোনো পরিস্থিতি তৈরি করে না। আদালতের এই সিদ্ধান্ত চিনের প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। 

রায়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিচারক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অবশ্যই শ্রমের মুক্তি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবহার করতে হবে। আইন কোম্পানিগুলোকে আধুনিকীকরণের অনুমতি দিলেও কর্মীদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এই রায়টি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এআই এবং মানুষের শ্রমের মধ্যকার ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস টাইমস।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: