তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় অভিনেতা থেকে রাজিনীতিবিদ হওয়া বিজয়ের মিশ্র ফলাফল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-এর হয়ে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয় পেরাম্বুর আসনে এগিয়ে থাকলেও তিরুচিরাপল্লী (ত্রিচি) ইস্ট আসনে বর্তমানে পিছিয়ে রয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই এই দুই আসনের দিকে নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাসক দল ডিএমকে-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই দুটি আসনকে নিজের নির্বাচনী অভিষেকের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়ে বিজয় এক ধরনের বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
চেন্নাই উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা পেরাম্বুর বিধানসভা আসনটি দ্রাবিড় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ভোটার অধ্যুষিত এই জনবহুল ও শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবেই ডিএমকে-এর আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়।
২০২১ সালের নির্বাচনেও ডিএমকে প্রার্থী আরডি শেখর এখানে ৫২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে অনায়াস জয় তুলে নিয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিজয় এই আসনটি বেছে নেওয়ায় এখানে লড়াই ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে। প্রাথমিক গণনায় বিজয় এগিয়ে থাকায় উত্তর চেন্নাইয়ের শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে তার দল টিভিকে-এর ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজয়ের জন্য তিরুচিরাপল্লী ইস্ট বা ত্রিচি ইস্ট আসনের লড়াই কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্য তামিলনাড়ুর এই আসনটিতে তিনি বর্তমানে ডিএমকে প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। বিজয় তার দলের প্রধান হিসেবে তামিলনাড়ুর মোট ২৩৪টি আসনের সবকটিতেই এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কোনো ‘নিরাপদ’ আসন বেছে না নিয়ে শাসক দলের অধীনে থাকা দুটি চ্যালেঞ্জিং আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার আগ্রাসী রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। উত্তর ও মধ্য তামিলনাড়ুর এই দুটি ফ্ল্যাগশিপ আসনের মাধ্যমে তিনি মূলত ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে নিজের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা নিচ্ছেন।
টিভিকে-এর পক্ষ থেকে পেরাম্বুর ও ত্রিচি ইস্ট আসন দুটিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিনেতা বিজয়ের বিশাল ভক্তগোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ভোটের পরিসংখ্যানে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদগুলোতে পেরাম্বুর আসনটিকে একটি মূল রণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজয়ের নির্বাচনী অভিষেক শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসিতে শেষ হয় নাকি দ্রাবিড় রাজনীতির চিরাচরিত ধারার কাছে বাধা পায়, তা দেখার জন্য চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি