কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা রাজ্যজুড়ে নির্ধারিত ৪৩টি অবস্থানের ১৪০টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে কেরালার পরবর্তী শাসনভার কার হাতে থাকবে।
সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রাপ্ত প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে প্রধান বিরোধী জোট হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (ইউডিএফ) এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন বামপন্থী এলডিএফ, বিরোধী ইউডিএফ এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মধ্যে চলা দীর্ঘ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত রায় আজই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, আজ ভোর সাড়ে ৬টার দিকে পর্যবেক্ষক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইভিএম সংরক্ষিত থাকা স্ট্রংরুমগুলো খোলা হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই গণনা প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে পোস্টাল ব্যালটগুলো গণনা করা হচ্ছে।
মোট সংগৃহীত ভোটের ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ হলো এই পোস্টাল ব্যালট। প্রাথমিক এই ধাপ শেষ হওয়ার পর ইভিএমের ভোট গণনা পুরোদমে শুরু হলে আসনভিত্তিক জয়-পরাজয়ের চিত্রটি আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। কেরালা রাজনীতির চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী পাঁচ বছর অন্তর সরকার পরিবর্তনের ধারা এবার বজায় থাকে নাকি ক্ষমতাসীন জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
কেরালার এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রের বাইরে রাজনৈতিক কর্মীদের ভিড় থাকলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রবণতাগুলো এখন পাওয়া গেলেও দুপুরের পর থেকে নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলের একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠবে। প্রতিটি রাউন্ডের গণনা শেষে তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউডিএফ জোটের লিড বজায় রাখা তাদের সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে অনেক আসনেই ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল পেতে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কেরালা বিধানসভার ১৪০টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণে ভোটাররা যে রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত মুহূর্ত এখন চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে শিক্ষিত তরুণ ভোটার এবং অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো বড় প্রভাব ফেলেছে, যার প্রতিফলন ইভিএমের ফলাফলে দেখা যেতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
সময়ের আলো/টিএইচ