পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী গণনার দিন কলকাতা রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছানো মাত্রই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের ভিড় ছিল। এ সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার গাড়ি নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়। এ ঘটনার আকস্মিকতায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা এর প্রতিবাদ করলে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত নিয়ে আগেই অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের এলাকা ছাড়তে বললে তার কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে বিশাল মিছিল নিয়ে হাজির হন বিজেপি সমর্থকরা। এরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই দুপক্ষ সংঘর্ষ জড়িয়ে পরে। এ সময় চেয়ার ভাঙচুর এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষুব্ধ এক বিজেপি সমর্থক বলেন, ২০২১ ও ২০২৪-এ আমাদের ওপর অনেক শোষণ করা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের এত কাছে ওরা অবৈধ জমায়েত করেছিল। বাংলার মানুষের উন্নয়ন না করে শুধু লুটেছে তৃণমূল। আর লুট করতে দেব না।
অন্যদিকে, জগদীশচন্দ্র বোস কলেজের সামনেও ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। কলেজের ভেতরে তৃণমূল সমর্থকেরা অবস্থান করলেও বাইরে লাঠি হাতে বিজেপি কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেক তৃণমূল সমর্থককে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় তৃণমূল নেত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কলেজে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিজেপির একদল নারী কর্মী মিছিল করে নবান্নের সামনে পৌঁছে স্লোগান দিতে শুরু করলে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নেয়। পুলিশ দ্রুত তাদের সরিয়ে দিলেও সম্ভাব্য গোলযোগ এড়াতে নবান্নের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সময়ের আলো/জেডআই