পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলতেই সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন উঠেছে—রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিজেপি প্রায় ২০৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রায় ১০০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করেনি, যেমনটা তারা আসামের মতো রাজ্যে করেছিল। তবে নির্বাচনের প্রবণতা স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও রাজনৈতিক ইঙ্গিতের ভিত্তিতে কয়েকজন নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আসছে।
সবচেয়ে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী
বর্তমানে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর তার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি বিজেপির কেন্দ্রে রয়েছেন। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তার প্রভাব দলের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে।
সংগঠনের অভিজ্ঞ মুখ দিলীপ ঘোষ
সাবেক রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এখনও দলের ভেতরে শক্তিশালী প্রভাব বজায় রেখেছেন। তৃণমূল স্তরে তার সংগঠন দক্ষতা ও কর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে রেখেছে।
উদীয়মান মুখ অগ্নিমিত্রা পাল
অগ্নিমিত্রা পাল বিজেপির অন্যতম প্রধান নারী নেত্রী হিসেবে উঠে এসেছেন। ভোট চলাকালীন তার গাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি আলোচনায় আসেন। তিনি আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকেও জয়ী হয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।
শহুরে রাজনীতির কণ্ঠস্বর পাপিয়া অধিকারী
পাপিয়া অধিকারী শহুরে সমস্যা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং উন্নয়ন নিয়ে টিএমসি সরকারের সমালোচনা করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। শহরভিত্তিক ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে বিজেপির কৌশলের সঙ্গে তার প্রচার মিল রয়েছে।
বুদ্ধিবৃত্তিক মুখ স্বপন দাশগুপ্ত
স্বপন দাশগুপ্ত নীতি ও প্রশাসনিক বিষয়ে জোর দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। রাশবিহারী আসন থেকে লড়ে তিনি দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থার প্রশ্ন তুলে শহুরে ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।
এক্স-ফ্যাক্টর
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে বিজেপি প্রায়ই চমক দেয়। মধ্যপ্রদেশে মোহন যাদব, হরিয়ানায় নায়েব সিং সাইনি বা ওডিশায় মোহন চরণ মাঝির মতো অপ্রত্যাশিত মুখকে তারা সামনে এনেছে। পশ্চিমবঙ্গেও এমন চমক আসতে পারে কিনা, তা এখনও দেখার বিষয়।
/ইউএমএইচ