তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক অগ্রগতি করার পর প্রথমবার জনসমক্ষে হাজির হলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয়।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় চেন্নাইয়ে নিজের পিতামাতার বাড়ির বাইরে তিনি শত শত সমর্থকের সামনে উপস্থিত হন, যেখানে মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
সাদা শার্ট পরে বাইরে বেরিয়ে আসতেই ভিড় তাকে ঘিরে ফেলে। তিনি ধীরে ধীরে হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানান এবং বারবার দুই হাত জোড় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপস্থিত সমর্থকরা তার নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন এবং অনেকেই আবেগে কেঁদে ফেলেন।
নির্বাচনের চলমান ফলাফল অনুযায়ী, টিভিকে (তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম) তামিলনাড়ুতে একক বৃহত্তম দল হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। দলটি দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক শক্তি— দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম-কে পিছনে ফেলে রাজ্যে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, টিভিকে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় প্রায় ৯৯টি আসনে এগিয়ে ছিল এবং কিছু আসনে এরইমধ্যেই জয় নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধাক্কা, কারণ এতদিন রাজ্যের ক্ষমতা মূলত ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-এর মধ্যেই ঘুরপাক খেত।
এই ফলাফলের মাধ্যমে বিজয় ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম বড় তারকা থেকে রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন। তাকে তুলনা করা হচ্ছে দক্ষিণ ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া নেতাদের সঙ্গে—যেমন এন.টি. রামা রাও, এম.জি. রামচন্দ্রন এবং জে. জয়ললিতা।
রাজনীতিতে নামার ঘোষণা তিনি প্রথম দেন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে দল গঠন করেন এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক জনসভা শুরু করেন। তার প্রচারণায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নির্বাচনে তিনি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং কোনো বড় আঞ্চলিক বা জাতীয় দলের সঙ্গে জোট করেননি। এই সিদ্ধান্তকে তার রাজনৈতিক স্বাধীন অবস্থানের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে তার প্রচারণা পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত ছিল না। এক জনসভায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু ঘটে, যা রাজ্যজুড়ে শোক ও সমালোচনার জন্ম দেয় এবং নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলে।
নির্বাচন শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্ব সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীত পরিচালক এ.আর. রহমান তার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তিনি যেন দুর্নীতিমুক্ত, সমানাধিকারভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল যদি চূড়ান্তভাবে বজায় থাকে, তবে এটি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং দীর্ঘদিনের ক্ষমতার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
/ইউএমএইচ