‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ ব্যর্থ হওয়ায় নতুন অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’। এর মাধ্যমে ইরানের অবরোধের মুখে আটকা পড়া জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে সাহায্য করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে অভিযান পরিচালনা করতে আসা মার্কিন-ইসরাইলি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ হরমুজে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। ইরানের ‘কঠোর সতর্কবার্তা’ পাওয়ার পর হরমুজে অভিযান বিরত রেখেছে অক্ষ শক্তির ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ। উত্তেজনার আগুন রেখায় উত্তপ্ত প্রণালিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরান সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে। জাহাজ আটকে পড়া, নৌ-অবরোধ, জব্দ জাহাজের ক্রুদের পাকিস্তানে হস্তান্তর এবং যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ কূটনৈতিক উদ্যোগ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আরও অস্থির।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তার পরপরই ইরান এই কৌশলগত জলপথে নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করে। বিশ্ববাণিজ্যের বড় অংশ, বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন এই পথ দিয়ে হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করে। যুদ্ধের প্রথম ধাক্কার পরই ইরান কার্যত বিদেশি জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। তাদের দাবি ছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি দ্রুতই এক ধরনের নৌ-অবরোধে পরিণত হয়। জাহাজ আটকে পড়তে থাকে, ক্রুরা খাদ্য ও সরবরাহ সংকটে পড়ে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানি বন্দরগুলো লক্ষ্য করে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপই পরবর্তী উত্তেজনার ভিত্তি তৈরি করে।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি ছিল খুবই নড়বড়ে। যুদ্ধবিরতির পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদার করে। একই সময় ইরানও হরমুজে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে। ফলে কাগজে-কলমে যুদ্ধ থামলেও বাস্তবে সংঘাতের অন্য রূপ চলতে থাকে, যেখানে অস্ত্রের বদলে নিয়ন্ত্রণ, অবরোধ এবং কৌশলগত অবস্থান প্রধান হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, হরমুজে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটিকে তিনি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন। বলা হয়, হাজার হাজার নাবিক দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছেন, তাদের খাদ্য ও জরুরি সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু ইরান এই ঘোষণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। তাদের দৃষ্টিতে, এটি প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।
ঘোষণার পরপরই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। তারা স্পষ্ট করে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বিদেশি সামরিক শক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে তারা ‘আক্রমণাত্মক’ বলে উল্লেখ করে এবং সরাসরি হামলার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও সতর্ক করা হয়, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া চলাচল করলে নিরাপত্তা ঝুঁকির দায় তাদেরই নিতে হবে। এই উত্তেজনার মধ্যেই সামনে আসে সবচেয়ে বিতর্কিত দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, সতর্কতা উপেক্ষা করে হরমুজে প্রবেশের চেষ্টা করায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। দাবি করা হয়, জাহাজটি ইরানের জাস্ক দ্বীপের কাছে ছিল এবং দুটি মিসাইল আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজটি নাকি পথ পরিবর্তন করে সরে যায়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের এই দাবি সামনে আসতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ এটি শুধু একটি সামরিক ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং সরাসরি দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের ইঙ্গিত বহন করে। ফার্স নিউজসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করে, এই হামলা ছিল ‘নিয়ম ভঙ্গের’ প্রতিক্রিয়া। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজটি ইরানের সতর্কতা অমান্য করে জলপথে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এই দাবির কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি জানিয়ে দেন, এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তাদের বক্তব্য, কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং ইরানের দাবি ভিত্তিহীন। এই দ্বৈত বয়ানই আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি করে, কারণ ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো নিরপেক্ষ তথ্য তখনও সামনে আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে জানায়, তাদের নৌবাহিনী স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানের আরোপিত অবরোধ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তারা এটাও দাবি করে যে, হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক সেনা, যুদ্ধবিমান এবং নৌ-সম্পদ মোতায়েনের কথাও বলা হয়।
তবে পর্দার আড়ালের বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে বের করে আনার পরিবর্তে তাদের নিরাপদ পথ নির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ কোন পথে গেলে ঝুঁকি কম হবে, কোথায় মাইন পাতা থাকতে পারে এসব তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হবে। এতে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয় না।
এই সময়েই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, যা তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। একটি জব্দ করা ইরানি জাহাজের ২২ জন ক্রুকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে পৌঁছে দেয়। পরে তাদের ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা জানানো হয়। পাকিস্তান এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাস স্থাপনের উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে।
এই পদক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষক দ্বিমুখী বার্তা হিসেবে দেখছেন। একদিকে সমুদ্রপথে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে সীমিত মানবিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ এই দুইয়ের সমন্বয় থেকে বোঝা যায় সম্পূর্ণ যুদ্ধ কিংবা সম্পূর্ণ শান্তি কোনোটিই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বরং দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত রেখে দর-কষাকষির জায়গা তৈরি করছে।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইরান একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে তারা প্রণালির একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে দাবি করে। এই মানচিত্র অনুযায়ী পশ্চিমে কেশম দ্বীপ থেকে শুরু করে পূর্বে মাউন্ট মোবারক পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অঞ্চলকে তারা কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে দেখাতে চায়।
এই দাবির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। কারণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ মানেই শুধু সামরিক প্রভাব নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব বিস্তার। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে। ইতিমধ্যেই তেলের দাম ওঠানামা করছে, আর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, মাঠের পরিস্থিতি যতটা উত্তপ্ত, কূটনৈতিক অঙ্গনও ততটাই সক্রিয়, তবে ফলাফলহীন। পাকিস্তানের রাজধানীতে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরেকটি মাত্রা দেয়।
সামরিক উত্তেজনার এই পটভূমিতে কূটনৈতিক অঙ্গনেও সমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, যদিও দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। ইরান জানায়, তারা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত প্রস্তাব দিয়েছে, যার জবাব যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে পাঠিয়েছে। এই বার্তা পৌঁছেছে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে, যা নিজেই ইঙ্গিত দেয় দুই দেশের সরাসরি যোগাযোগ এখনও সীমিত এবং অবিশ্বাস কাটেনি।
ইরানের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা। তাদের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের সীমান্তের কাছ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং সাম্প্রতিক হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান। পাশাপাশি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে চলমান সংঘাত বন্ধ করার কথাও বলা হয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে হবে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমানো বা সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে তারা আপস করতে রাজি নয়। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। এই দ্বন্দ্বই মূলত আলোচনাকে আটকে দিচ্ছে। ইরান আপাতত পারমাণবিক ইস্যুকে আলোচনার বাইরে রাখতে চায়, অন্তত যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত। তাদের যুক্তি, প্রথমে সংঘাত থামাতে হবে, তারপর দীর্ঘমেয়াদি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মনে করে এই সুযোগে ইরান সময় নেবে এবং নিজের অবস্থান আরও শক্ত করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালি অচল থাকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সংকট সমাধান না হলে তা বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ফলে একদিকে কড়া অবস্থান বজায় রাখা, অন্যদিকে দ্রুত ফল আনার চাপÑ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।
ইরানের ভেতরেও পরিস্থিতি সহজ নয়। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধের প্রভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বেকারত্ব সব মিলিয়ে অর্থনীতি চাপে রয়েছে। তেল রফতানিতে বাধা তৈরি হওয়ায় আয়ের বড় উৎস সংকুচিত হয়েছে। যদিও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবু অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এই বাস্তবতা ইরানের দর-কষাকষির অবস্থানকে প্রভাবিত করছে, তারা একদিকে কঠোর ভাষায় কথা বলছে, অন্যদিকে আলোচনার পথও খোলা রাখছে।
এই দুই বাস্তবতার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে হরমুজ প্রণালি। এখানে প্রতিটি পদক্ষেপই এখন প্রতীকী এবং কৌশলগত। একটি জাহাজের গতিপথ বদলানো, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি, কিংবা একটি অস্বীকার সবকিছুই বড় বার্তা বহন করছে। ইরানের হামলার দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার তাই শুধু তথ্যগত বিরোধ নয়; এটি শক্তি প্রদর্শন, মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করার লড়াইও।
জব্দ জাহাজের ক্রুদের পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাটিও এই জটিল বাস্তবতার অংশ। এটি যেমন উত্তেজনার মধ্যে একটি নরম ইঙ্গিত, তেমনি কূটনৈতিক দরজাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি তারও প্রমাণ। কিন্তু এই ধরনের সীমিত উদ্যোগ বড় সংঘাত ঠেকাতে যথেষ্ট কি না তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের অচলাবস্থার মধ্যে আটকে আছে, যেখানে যুদ্ধ আছে, কিন্তু পূর্ণমাত্রার নয়; শান্তির আলোচনা আছে, কিন্তু ফলহীন। এই অবস্থায় একটি ছোট ভুল হিসাব বা ভুল সংকেতও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। আর সেটিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য।