ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের নতুন মৌসুম শুরু হতেই চমক দেখাল নবাগতরা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হার, হাইস্কোরিং ম্যাচ আর বিতর্ক সবমিলে জমে উঠেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। উদ্বোধনী দিনেই বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বড় ধাক্কা খেয়েছে আবাহনী, আর অন্য ম্যাচগুলোতেও ছিল নাটকীয়তা ও রান খরা। তবে আবাহনী হারলেও জয় পেয়েছে মোহামেডান।
প্রিমিয়ার ডিভিশনে প্রথমবার খেলতে নেমেই শক্তিশালী আবাহনীকে ৫ উইকেটে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে ঢাকা লেপার্ডস। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে বিলম্ব হলেও টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত কাজে লাগায় লেপার্ডস। ৩০ ওভারের ম্যাচে আবাহনী ৮ উইকেটে ১৮১ রান তুললেও, দ্বিতীয় ইনিংসে শুকনো উইকেটে ব্যাট করে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে নবাগত দলটি।
মঈন খানের শুরুর তোপে চাপে পড়ে আবাহনী। পাওয়ারপ্লেতেই তিনি তুলে নেন দুই উইকেট, শেষ পর্যন্ত ৬ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। ব্যাটিংয়ে আবাহনীর হয়ে সাব্বির রহমান রুম্মানের দুর্দান্ত ফিফটি দলকে লড়াইয়ে রাখে। ২৯ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা। শেষ ৪ ওভারে ৫১ রান তুলে স্কোর ১৮১-এ নিয়ে যায় আবাহনী। তবে রান তাড়ায় ধারাবাহিক জুটিতেই ম্যাচ বের করে নেয় ঢাকা লেপার্ডস। ওপেনিংয়ে ৩৪, দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ এবং তৃতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটিতে সহজ হয় পথচলা। জাকির ৬৬ বলে ৭৪ রান করে দলকে এগিয়ে নেন, যদিও শেষটা করতে পারেননি। ৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে লেপার্ডস।
অন্য ম্যাচে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ২২ রানে হারিয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে। ৩৪ ওভারের ম্যাচে ৩ উইকেটে ২৮৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে রূপগঞ্জ। আশিকুর রহমান শিবলি ৮১ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন, মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন। সামিউন বশির রাতুল ২২ বলে ৪৬ এবং শেষ দিকে মেহেদি ১৬ বলে ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে স্কোর দাঁড়ায় পাহাড়সম। জবাবে লড়াই করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। কালাম সিদ্দিকি এলিন ৪৬ বলে ৭৮ এবং মুক্তার আলী ২৭ বলে ৫২ রান করলেও দল থামে ৭ উইকেটে ২৬১ রানে। বল হাতে নাসুম আহমেদ ও স্বাধীন ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট।
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে সিটি ক্লাবকে হারাতে বেগ পেতে হয়নি চ্যাম্পিয়ন দল গড়া মোহামেডানকে। সিটি ক্লাবের দেওয়া ১৪৯ রান তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে এনামুল হক বিজয়ের ৮০ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৫.২ ওভারেই জয় তুলে নেয় মোহামেডান।
দিনের আরেক ম্যাচে দারুণ জয়ে মৌসুম শুরু করে বসুন্ধরা স্টাইকার্স। তারা ২৬ রানে হারিয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে। আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৮০ রান তোলে বসুন্ধরা। জাতীয় দলের ওপেনার সাইফ হাসান ১২৬ বলে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেও সেঞ্চুরি মিস করেন। ফজলে রাব্বি ৭২ রান যোগ করেন। রান তাড়ায় শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে গুলশান। শাহরিয়ার সাকিব ৪৭ এবং জুবায়ের হোসেন ৭৩ রান করে লড়াই চালালেও দল গুটিয়ে যায় ২৫৪ রানে। রুয়েল মিয়া ও নাহিদুল ইসলাম নেন তিনটি করে উইকেট।
তবে এই ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ নিয়ে বিতর্কে থার্ড আম্পায়ার না থাকায় ফিল্ডারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক, তারা ৪ উইকেটে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংককে। ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৮২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের জয় পায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।