কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছেন ভেড়ামারা থানা পুলিশ। আটক আসামিদের মধ্যে ৩ জন বিজ্ঞ আদালতে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা থানার ওসির কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের সামনে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে জর্ডান প্রবাসী বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে বিবস্ত্র করে, মুখমণ্ডল পুড়িয়ে এবং পুরুষাঙ্গ কেটে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ভেড়ামারা থানা পুলিশ সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা (নতুনহাট), লিমন (ধরমপুর), মো. মহিন উদ্দিন (রামচন্দ্রপুর), মো. জাহাবুল ইসলাম ওরফে জাবুল (উত্তর ভবানীপুর) ও মো. শাওন (রামচন্দ্রপুর) আসামিদের গ্ৰেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
এদের মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন এই ৩জন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তুষার, খোকনসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তে ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আসামিরা ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানান।
হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের দিন সোহেল রানার ঘনিষ্ঠজন হিসাবে পরিচিত সুজন কানা তার বাড়িতে তুষার, জাবুল, শাওন ও লিমনকে নিয়ে একটি মিটিং করে। এ সময় সুজন অ্যাডভান্স হিসাবে ২৫ হাজার টাকা মহিনকে দেয়, বাদবাকি হত্যাকাণ্ডের পরে দেবে বলে জানায়।
২৫ নভেম্বর সন্ধ্যার পর লিমন ও মহিন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে হত্যাকাণ্ডের স্থান রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের গ্রামের রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই জাবুল ও তুষার হাসুয়া, বাটাম, দুটি লোহার রড ও ছুরি নিয়ে অবস্থান করছিল। তুষার হাসুয়া দিয়ে তার মাথার পিছনে কোপ মারে এবং অন্যান্য আসামিরা এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মহিন তার গলায় একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তুষার তার শরীরের কাপড় খুলে ফেলে এবং মহিন ও অপর আসামি শাওন পাটখড়ি, পেট্রোল দিয়ে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে বিকৃত করে।
মৃত্যু নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে মহিন, জাবুল ও খোকন সুজন কানার বাড়িতে মোটরসাইকেল যোগে বাকি টাকা আনতে যান। পরবর্তীতে সে টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রায় সম্পূর্ণটাই মিলে গেছে। তবে, মূল আসামি সুজন কানা জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরবর্তীতে নিজেকে সরিয়ে নেয়।
সুজন কানা কেন সোহেল রানার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও রহস্যাবৃত।
/মহু