ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া যেন শেষ হতে চাইছে না। অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আবারও পিছিয়েছে, যা নিয়ে মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তদন্ত সংস্থাকে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত নতুন সময় দিয়েছে। এ নিয়ে টানা ১৩ বার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পেছাল।
আদালত সূত্র বলছে, নির্ধারিত দিনে তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা কোনও অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আরও পড়ুন
মামলাটির বর্তমান অবস্থায় আসে নতুন মোড়, যখন চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের পূর্বে দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে আপত্তি (নারাজি) জানান। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তদন্ত কার্যক্রম নতুন করে শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারণা শেষে মতিঝিল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। মামলার অভিযোগপত্রে একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনার পেছনে পূর্বপরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে এবং ভয়ভীতি ছড়াতে এই হামলা চালানো হয়।
এএডি/