মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
সোমবার (৪ মে) দেশটির প্রভাবশালী প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে উত্তজনা বৃদ্ধি করা হলে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান স্থিতিশীলতাহীন অবস্থা আমেরিকার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে তা ইরান ভালো করেই জানে। তবে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান তার সক্ষমতার খেলা ‘এখনো শুরুই করেনি’।
ইরানের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন হরমুজ প্রণালী এবং এর আশপাশের অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার তাদের অ্যাপাচি ও সিহক হেলিকপ্টারগুলো ইরানের ছয়টি স্পিডবোটে আঘাত হেনেছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ওই ইরানি বোটগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করছিল। এছাড়া মার্কিন বাহিনী তাদের ওপর ধেয়ে আসা বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের ভূখণ্ডে নতুন করে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলায় একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ থেকে নিরপেক্ষ দেশগুলোর জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে নেওয়ার জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এই ঘোষণার পরপরই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে গোলাগুলি বিনিময় শুরু হয়। মূলত হরমজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি সামুদ্রিক অবরোধ বা ‘মেরিটাইম ব্লকেড’ আরোপের চেষ্টা করছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমজ প্রণালীতে এই উত্তেজনা কেবল দুই দেশের মধ্যকার বিষয় নয় বরং এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গালিবাফের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরান এই লড়াইয়ে আরও দীর্ঘ মেয়াদে অবতীর্ণ হতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই সামরিক সংঘাত আরও বৃদ্ধি পায় তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। বর্তমানে উভয় পক্ষই রণক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই
সময়ের আলো/টিএইচ