সত্তর আশির দশকেও এ দেশের নারীরা যখন ঘরের বাইরে নিজেকে বিস্তৃত পরিসরে মেলে ধরার সুযোগ পেতো না, তখন বাংলাদেশের প্রথম নারী জিমন্যাস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রামের সাহসী নারী খুরশিদা আক্তার খুশি।
জিমন্যাস্টিক্সের মতো চ্যালেঞ্জিং খেলায় অংশগ্রহণ করে খুশি ক্রীড়াঙ্গনে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৭৭ সালের ২০ জুলাই দেশের প্রথম ক্রীড়া দ্বি-সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ক্রীড়াজগত’ এর প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে স্থান পাওয়ার সম্মানও অর্জন করেন তিনি।
জিমন্যাস্টিক্স মূল পরিচয় হলেও, জাতীয় জুডো চ্যাম্পিয়নও ছিলেন খুশি। দুটি খেলায় একইসঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এই দৃঢ়চেতা নারী। তবে, পরবর্তীতে জিমন্যাস্টিক্সকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে জুডোতে তিনটি জাতীয় ব্যক্তিগত শিরোপা জিতেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী। এমনকি তিনবার 'জাপান কাপ' জুডো শিরোপাও জিতেছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন জিমন্যাস্টিক্সের এই চ্যাম্পিয়ন।
০৪ মে ২০২৬, ঢাকায় জীবনাবসান ঘটে বাংলাদেশের প্রথম নারী জিমন্যাস্ট খুরশিদা আক্তার খুশির।
/মহু