চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত এবং ৬১ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার বিকেলের এই ঘটনার পর মঙ্গলবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে হুনান প্রদেশের লিউইয়াং শহরের ‘হুয়াশেং আতশবাজি’ কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কারখানার ভবনগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকার ঘরবাড়ির জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশছোঁয়া কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।
বিস্ফোরণের পর কারখানার গুদামে থাকা গানপাউডার থেকে পুনরায় বিস্ফোরণের আশঙ্কায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেন প্রায় ১,৫০০ কর্মী, যাদের সহায়তা করতে রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় দফার তল্লাশিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬-এ দাঁড়ায়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না এবং এই ঘটনার পেছনের দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও শিল্প খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, লিউইয়াং শহরটি চীনের আতশবাজি উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ আতশবাজি এই শহর থেকেই রপ্তানি করা হয়। তবে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে এই অঞ্চলে মাঝেমাঝেই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ২০১৯ সালেও এখানে একটি কারখানায় বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ইতিমধ্যে পুলিশ সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিককে আটক করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
/কহু