যুগ যুগ ধরে ধাত্রীদের অবদানকে সম্মান জানাতে, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এবং শিশুমৃত্যু হার কমাতে ১৯৯২ সাল থেকে ৫ ই মে বিশ্ব ধাত্রী দিবস পালন করা হয়। চলুন আজ জেনে নিই, বিশ্বের কিছু আলোচিত ধাত্রীদের গল্প।
ইনা মে গ্যাসকিন
১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া এই আমেরিকান ধাত্রীকে বলা হয় ‘খাঁটি ধাত্রীবিদ্যার জননী’। ১৯৬০ এর দশকে, ইনা মে তার প্রথম সন্তানের জন্ম দেন, যেখানে চিকিৎসক প্রসূতি ফোরসেপ ব্যবহার করেছিলেন। অভিজ্ঞতাটি এতটাই অপ্রীতিকর ছিল যে, তিনি প্রসবের একটি উন্নততর পদ্ধতির সন্ধান করতে শুরু করেন। ১৯৭১ সালে সানফ্রান্সিসকোতে যাওয়ার পথে তিনি প্রথমবারের মতো একজন মহিলাকে সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন। তার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ধাত্রীবিদ্যা এবং নিরাপদ প্রসবের প্রতি তার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
১৯৭১ সালে তিনি তার স্বামী স্টিফেন গ্যাসকিনের সাথে মিলে, পারিবারিক চিকিৎসক ডঃ জন উইলিয়ামস এর সার্বিক পরামর্শে 'দ্য ফার্ম মিডওয়াইফারি সেন্টার' তৈরি করেন, যা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দিকের হাসপাতাল-বহির্ভূত প্রসব কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি।
তিনি ম্যানুভারের জন্য পরিচিত। ধাত্রীবিদ্যা এবং প্রসবের উপর বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। এমনকি বক্তৃতা ও সম্মেলনের মাধ্যমে সমাজকে শিক্ষিত করে চলেছেন প্রতিনিয়ত।
মেরি ব্রেকিনরিজ
মেরি ব্রেকিনরিজ ১৮৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম মেরি কার্সন ব্রেকিনরিজ। তিনি ছিলেন একজন নার্স মিডওয়াইফ এবং ফ্রন্টিয়ার নার্সিং সার্ভিস (এফএনএস)-এর প্রতিষ্ঠাতা। এই সংস্থাটি গ্রামীণ কেন্টাকির পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করত। এফএনএস সড়ক ও রেল ব্যবস্থার বাইরে থাকা, কিন্তু ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছানো যায় এমন প্রত্যন্ত ও দরিদ্র এলাকাগুলোতে সেবা দিত।
তিনি ইউরোপীয় পদ্ধতির অনুকরণে তার সেবাগুলো গড়ে তুলেছিলেন এবং আমেরিকান নার্স-মিডওয়াইফদেরকে বাড়িতে ও ক্লিনিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য পেশাদার করে তুলতে চেয়েছিলেন। যদিও ব্রেকিনরিজের কাজ তুলনামূলকভাবে কম খরচে শিশু ও মাতৃমৃত্যু নাটকীয়ভাবে কমিয়ে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছিল, তবু তার নার্স-মিডওয়াইফারির মডেলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কখনও প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। ১৯৬৫ সালে মারা যান মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা এই মহিয়সী নারী।
অ্যাগনেস হান্টা
১৮১৫ সালে স্কটল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাগনেস হান্টা। যিনি পরবর্তীতে একজন প্রখ্যাত ধাত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অ্যাগনেস তার কর্মজীবনে হাজারেরও বেশি শিশুকে পৃথিবীতে আনতে সহায়তা করেছেন। গ্রামের নারীদের কাছে তিনি এক নিবেদিতপ্রাণ সেবিকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৮৫১ সালে, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটে মানবদরদী অ্যাগনেস হান্টার।
/মহু