বিশ্বজুড়ে দ্রুত ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ডায়াবেটিস থেকে কী মুক্তি পাওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নটা অনেকেরই।
ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ
বর্তমানে পৃথিবীতে ৮০ কোটির বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, যা খুবই আশঙ্কাজনক। বিশ্বের শীর্ষ ডায়াবেটিস আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম, যেখানে এ রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং বংশগত কারণ মিলিয়েই এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
এই রোগ কি সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব?
এই রোগ কি সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব? নাকি সারা জীবন নিয়ন্ত্রণ করেই চলতে হবে? এ প্রশ্নটা যেন সকল ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরই। আসলে, ডায়াবেটিস পুরোপুরি নির্মূল করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব না হলেও, সঠিক সময়ে সচেতন পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব ।
জীবনযাত্রার অভ্যাস
বিশেষজ্ঞের মতে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই নির্ভর করে ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনধারার উপর। পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে এবং তার সঙ্গে যদি অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব যুক্ত হয়, তাহলে অল্প বয়সেই এই রোগ দেখা দিতে পারে। আমরা সাধারণত যে ডায়াবেটিস দেখি তা হলো টাইপ-টু ডায়াবেটিস। এটি মূলত বংশগত কারণ ও জীবনযাত্রার অভ্যাসের মিলিত প্রভাবের ফল।
অস্থায়ী নিরাময়
প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবেটিস ধরা পড়লে, তা নিয়ন্ত্রণে এনে অনেক ক্ষেত্রে রিভার্সাল সম্ভব। যদি রোগ নির্ণয়ের প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে শরীরের ওজন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়, নিয়মিত ব্যায়াম করা হয় এবং খাদ্যাভ্যাসে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা যায়, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু, এই অবস্থাকে স্থায়ী নিরাময় বলা যায় না। কারণ, ওজন আবার বেড়ে গেলে বা পরিশ্রম কম করলে ডায়াবেটিসও ফিরে আসতে পারে।
ওষুধ গ্রহণ
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কিছু ওষুধ রয়েছে, যা ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে, সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ এবং নিয়ম মেনে চলাই একমাত্র উপায়।
সুগার মনিটরিং
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে নিয়মিত সুগার মনিটরিং জরুরি। অনেক সময় এই রোগ নীরবে শরীরের ভিতরে ক্ষতি করে এবং হঠাৎ করেই আকারে ধরাদেয়। তাই শুধু সুগার পরীক্ষা নয়, ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল, কিডনি, চোখ, হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুর নিয়মিত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
ইনসুলিন
ইনসুলিন মানেই সারা জীবনের চিকিৎসা নয়। অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থতার সময় অস্থায়ীভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়। আবার দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে শরীরের ইনসুলিন উৎপাদন কমে গেলে, দীর্ঘমেয়াদি ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক জীবনযাপন মেনে চললে ইনসুলিনের ডোজ কমানো সম্ভব।
অ্যান্টি-বায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
অন্যদিকে, অ্যান্টি-বায়োটিকের অপব্যবহারও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। অকারণে অ্যান্টি-বায়োটিক গ্রহণ করলে শরীরে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, ফলে ভবিষ্যতে সংক্রমণের চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অ্যান্টি-বায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস পুরোপুরি নির্মূল করা সবসময় সম্ভব না হলেও, নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব । তাই সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
/মহু