হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় পাঁচজন নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌকাগুলোকে ইরানের

2026-05-05T19:21:06+00:00
2026-05-05T19:25:59+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের অভিযোগ
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৭:২১ পিএম  আপডেট: ০৫.০৫.২০২৬ ৭:২৫ পিএম
ইরানের বন্দর আব্বাসের উপকূলের কাছে তোলা ছবি। ছবি : ইয়াহু
ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় পাঁচজন নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌকাগুলোকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, আসলে সেগুলো ছিল সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকা। 

মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ওই ঘটনায় কোনো আইআরজিসির নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং মার্কিন বাহিনী দুটি ছোট নৌকায় হামলা চালায়, যেগুলোতে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করছিল। নৌকাগুলো ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের দিকে যাচ্ছিল।

এই হামলায় নৌকাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং পাঁচজন যাত্রী প্রাণ হারান বলে দাবি করে ইরান। তারা এ ঘটনাকে “অপরাধ” বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহিতা দাবি করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, তাদের বাহিনী ছয়টি আইআরজিসি নৌকা ডুবিয়েছে, যেগুলো তাদের অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌকার সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন।

“প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৮ এপ্রিল হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে। এর ফলে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই সহিংসতার ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ— বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও সার-এর দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে।

এখন ইরান বলছে, তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আদায় করবে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই জলপথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধবিরতি ভেঙে এবং অবরোধ তৈরি করে নৌ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। 

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করা সম্ভব হবে না এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জাহাজে হামলার অভিযোগ

উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সেনাবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে— অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী এই এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের ওপর হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা আরও দাবি করে, ইরান তাদের ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এই হামলায় ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।

তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের “সামরিক দুঃসাহসিকতার” ফল। ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, তাদের তেল স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্র অবৈধভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজ, এইচএমএম নামু, বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনীর সহায়তায় দুটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।



তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দাবি “ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মাইরিস্ক জানিয়েছে, তাদের একটি জাহাজ মার্কিন সামরিক সহায়তায় হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সোমবার হরমুজ প্রণালীতে যা ঘটেছে, তা স্পষ্ট করে দেয়— রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।

তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছিল। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও যেন যুক্তরাষ্ট্র এই জটিল পরিস্থিতিতে জড়িয়ে না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও সতর্ক থাকা উচিত। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আসলে ‘প্রজেক্ট অচলাবস্থা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি ইরান “প্রজেক্ট ফ্রিডম”-এর অংশ হিসেবে চলাচলকারী মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। 

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাদের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেগুলো আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের কাছে সেরা সরঞ্জাম আছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাঁটি রয়েছে, সবই প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে আমরা সবকিছু ব্যবহার করব।  


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইরান  হরমুজ প্রণালী 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: