রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য আজকের দিনটি স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সকালেই শহরের বায়ুদূষণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সবার জন্যই ক্ষতিকর।
বুধবার (৬ মে) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পরিমাপ করা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ১৫২- যা অস্বাস্থ্যকর ক্যাটাগরিতে পড়ে। একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল চতুর্থ।
রাজধানীর বিভিন্ন অংশে দূষণের মাত্রা ভিন্ন হলেও কিছু এলাকায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ। পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি এলাকায় AQI স্কোর ১৬৫- যা উচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া ধানমন্ডি, উত্তর বাড্ডা, গুলশান, বারিধারা ও আশপাশের এলাকাগুলোতেও দূষণ মাঝারি থেকে অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বাতাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর উপাদান হলো- অতি সূক্ষ্ম কণা, যা সহজেই ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যেতে পারে। এর ফলে বাড়তে পারে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি।
আরও পড়ুন
এই দূষণের পেছনে রয়েছে- যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটার নির্গমন, শিল্পকারখানার বর্জ্য।
ঢাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি, ভারতের দিল্লি এবং আফগানিস্তানের কাবুলও আজ দূষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলো একসঙ্গে বায়ুদূষণের সংকটে ভুগছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে- যা এই সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে।
এই পরিস্থিতিতে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি- শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, বাইরে গেলে অবশ্যই মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা ও ভারী কাজ এড়িয়ে চলা, ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার, জানালা-দরজা বন্ধ রেখে বাইরের দূষিত বাতাস ঢোকা কমানো।
দূষণ কমাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে- ইটভাটা ও শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলে ধুলা কমাতে পানি ছিটানো, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা এবং পুরোনো ধোঁয়াযুক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ।
এএডি/