কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপের বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী চাহিদাকে পুঁজি করে দক্ষিণ কোরিয়ার ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বুধবার (৬ মে) প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
স্যামসাংয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ‘কোসপি’ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূলত উচ্চ প্রযুক্তির চিপ সরবরাহে স্যামসাং এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের অগ্রণী ভূমিকা দেশটিকে বিশ্বের শীর্ষ এআই পরাশক্তি হওয়ার দৌড়ে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে।
বুধবার সকালে লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা প্রতিষ্ঠানটিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূলধন এনে দেয়। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ার কোম্পানিগুলোর মধ্যে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (টিএসএমসি) পর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই গৌরব অর্জন করল স্যামসাং।
একই দিনে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দামও ১০ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রভাবে সিউলের শেয়ারবাজার সূচক ‘কোসপি’ ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রথমবারের মতো ৭ হাজার পয়েন্টের ঐতিহাসিক উচ্চতা অতিক্রম করেছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে স্যামসাং তাদের পরিচালন মুনাফায় অবিশ্বাস্য প্রবৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ৭৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওনে (৩৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে।
মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত বিস্তার এবং বিশ্বজুড়ে এআই অবকাঠামো তৈরির হিড়িক মেমোরি চিপের চাহিদাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই চাহিদার ওপর ভর করে গত এক বছরেই স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ শতাংশ, যা দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করেছে।
স্যামসাং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বাজারের চাহিদাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করাই এই বিশাল অর্জনের মূল চাবিকাঠি। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মেমোরি চিপের এই উচ্চ চাহিদা অব্যাহত থাকবে, কারণ বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এআই ভিত্তিক পরিষেবার দিকে ঝুঁকছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারও ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বসেরা তিন এআই পরাশক্তির তালিকায় নাম লেখানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, স্যামসাংয়ের এই সাফল্য সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সময়ের আলো/টিএইচ