লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
বুধবার (৬ মে) এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং জানানো হয়, খুব শীঘ্রই ওই এলাকাগুলোতে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ি জানিয়েছেন, কাওথারিয়াত আল-সিয়াদ, আল-ঘাসানিয়েহ, মাজরাআত আল-দাউদিহ, বদেয়াস, রিহান, জেলায়া, আল-বাজুরিয়েহ, হারুফ, হাব্বুশ, আনসারিয়েহ, কাল্লাউইয়াহ এবং দেইর আল-জাহরানি—এই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত বাড়িঘর খালি করতে হবে। তাদের অন্তত ১ হাজার মিটার বা ৩ হাজার ২৮০ ফুট দূরে কোনো উন্মুক্ত স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত এবং ১৭ মে পর্যন্ত বর্ধিত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননে প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞের আদলে লেবাননের ডজনখানেক গ্রামেও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
লেবাননের সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০২ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৩১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এই সংঘাতের ফলে ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
ইসরায়েল বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে কিছু এলাকা কয়েক দশক ধরে এবং কিছু এলাকা ২০২৩-২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বর্তমান সংঘাতের সময় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ সীমান্ত থেকে লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার বা ৬ দশমিক ২ মাইল অভ্যন্তরে অগ্রসর হয়েছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং নির্বিচার হামলার ফলে ওই অঞ্চলে মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, বরং নতুন করে এই এলাকা ত্যাগের নির্দেশ সংঘাত আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইস্তাম্বুল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর এই অভিযান মূলত এলাকাগুলো জনশূন্য করে সেখানে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল। মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ি বারবার বাসিন্দাদের জীবন রক্ষায় দ্রুত স্থান ত্যাগের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ ধরনের বড় মাপের উচ্ছেদ ও হামলার পরিকল্পনা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। লেবানন সরকার এই পরিস্থিতির বিষয়ে বিশ্বনেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করলেও সীমান্তে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সময়ের আলো/টিএইচ