ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রভাব এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যেও। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পুলিশি কড়াকড়ি, লাঠিচার্জ ও ধরপাকড়ের অভিযোগের প্রতিবাদে লন্ডনের ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক প্রবাসী ভারতীয়। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো ও এডিনবরাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় মধ্য লন্ডনের ইন্ডিয়া হাউসের সামনে ছাত্র, গবেষক, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জড়ো হন। তাদের অভিযোগ, নীট পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক ও শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভারতে চলমান আন্দোলনের জবাবে কেন্দ্র সরকার দমনমূলক অবস্থান নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-ইউকের নেত্রী সোমিহা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভারতে অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানানো এবং আন্দোলনকারীদের ওপর চলমান পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তার ভাষায়, গণতান্ত্রিকভাবে মতপ্রকাশের অধিকারের প্রশ্ন এখন আর শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লন্ডনে কর্মরত ইউনিসেফ কর্মকর্তা ঈশিতা বলেন, দিল্লিতে আন্দোলনে থাকা বন্ধুদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নিরাপদ পরিবেশে প্রতিবাদ করতে পারছি, কিন্তু ভারতে থাকা আমার বন্ধুরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।’ বিদেশে এমন সংহতির কর্মসূচি আন্দোলনকারীদের মনোবল আরও বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ, এসএফআই-ইউকে এবং ইন্ডিয়া ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (জিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে অনশনরত অন্যান্য আন্দোলনকারীদের প্রতিও সংহতি জানানো হয়।
আয়োজকদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পরীক্ষাপদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৬ জুলাই যুক্তরাজ্যের লিডসেও একই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে