ইসরায়েলকে বয়কট করা বা ইসরায়েলবিরোধী বয়কট কর্মসূচিতে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি আইনে পরিণত হলে ইসরায়েলকে বয়কট করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফেডারেল সহায়তা হারাতে পারে।
বৃহস্পতিবার রিপাবলিকানদের নেতৃত্বে উত্থাপিত ‘প্রটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট’ নামে বিলটি ২৩৭-১৬৯ ভোটে পাস হয়। এখন বিলটির ভাগ্য নির্ভর করছে সিনেটের সিদ্ধান্তের ওপর।
বিল অনুযায়ী, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেল শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, শুধু সেসব প্রতিষ্ঠান এর আওতাভুক্ত হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও বিদেশি ভাষা কর্মসূচিতে ফেডারেল অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা ইসরায়েলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বা ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসে অংশগ্রহণে কোনো বাধা দিচ্ছে না।
ভোটাভুটিতে ৩৩ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য নিজ দলের অবস্থানের বিপক্ষে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তাঁদের বেশির ভাগই আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছেন এবং অতীতে ইসরায়েলকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, দুজন রিপাবলিকান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন।
হাউসের শিক্ষা কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান টিম ওয়ালবার্গ বলেন, ইসরায়েলি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু ইসরায়েলি হওয়ার কারণে বৈষম্যের শিকার করতে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত ফেডারেল কর্মসূচি ব্যবহার করা উচিত নয়।
তবে বিলটির বিরোধিতাকারীরা বলছেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। শিক্ষা কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট ববি স্কট বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস (বিডিএস) আন্দোলন গ্রহণ করেনি। তাই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নামে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের অধিকার সীমিত করা উচিত নয়।
নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জেরল্ড ন্যাডলারও বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। তিনি বলেন, তিনি বিডিএস আন্দোলনের বিরোধী হলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। তাঁর ভাষায়, নিজের পছন্দের মতামত যেমন সুরক্ষিত থাকা উচিত, তেমনি অপছন্দের মতামতের ক্ষেত্রেও একই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, বিলটির সমর্থকেরা বলছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং বৈষম্য প্রতিরোধ করা।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরায়েলবিরোধী বয়কট আন্দোলনের পক্ষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। তবে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি বা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েল ইস্যুতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে শতাধিক ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইসরায়েলকে দেওয়া কিছু সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে একটি বিল সমর্থন করেন।
সময়ের আলো/কেএইচ