রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তিচুক্তির উদ্যোগ নিয়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নতুন একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। সেটি নিয়ে আলোচনার জন্য উইটকফ ও কুশনারকে পাঠানো হয়েছে। তবে তারা রাশিয়া, ইউক্রেন নাকি দুই দেশেই সফর করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘শান্তির জন্য আমাদের একটি ধারণা আছে।’ তিনি উইটকফ ও কুশনারকে ‘দারুণ আলোচক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তারা এ বিষয়ে ভালো কাজ করেছেন। যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ‘ভালো সুযোগ’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার জানিয়েছেন, মস্কো সফরের পর রোববার উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনে যাবেন। তবে সফরের কর্মসূচি নিয়ে শেষ কয়েক দিনে পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। শুক্রবার পর্যন্ত কিয়েভ সফর পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। কয়েক মাস ধরে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
আগস্টের শেষ দিকে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করেন। যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতার বিষয়টি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবেচনা করতে চাপ দেওয়ার বিষয়টিও তার সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বেশির ভাগ কর্মকর্তার ধারণা, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বল্পমেয়াদি কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নন। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণাও হলো, নিকট ভবিষ্যতে যুদ্ধ কমানোর বদলে রাশিয়া আরও তীব্রতা বাড়াতে পারে।
এর মধ্যেই শুক্রবার কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হানে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি কিয়েভে রাশিয়ার হামলার অন্যতম আলোচিত লক্ষ্যবস্তু।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উইটকফ। তিনি এরই মধ্যে একাধিকবার মস্কো সফর করলেও এখনো ইউক্রেন সফর করেননি।
সময়ের আলো/কেএইচ