দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি ম্যানেজমেন্ট অফিসে অ্যাডহক কমিটির চতুর্থ সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। এতে নেতৃত্ব নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলর নিয়োগ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে কোচদের মানোন্নয়ন পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা কাউন্সিলর নিয়োগের জট খুলতে যাচ্ছে বিসিবি। গঠনতন্ত্রের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব ও জেলা সংস্থাগুলো থেকে এই নামগুলো আহ্বান করা হবে। আগামী ১৬ মে’র মধ্যে নিজ নিজ সংস্থার কাউন্সিলরের নাম বিসিবির কাছে জমা দিতে হবে। শিগগিরই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি ক্লাব ও সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে। এই কাউন্সিলররাই মূলত ভবিষ্যৎ বিসিবি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
তৃণমূল ক্রিকেটের মান বাড়াতে জেলা পর্যায়ে নিয়োজিত ৬৪ জন কোচের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনছে বোর্ড। বর্তমান কোচদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
তবে এবার শুধু আবেদন করলেই মিলবে না চাকরি। পার হতে হবে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার কঠিন বাধা। আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছে অ্যাডহক কমিটি। বিসিবির লক্ষ্য হলো, শুধু সনদপত্র দেখে নয়, মাঠের কাজের দক্ষতা দেখে দক্ষ কোচদের নিয়োগ দেওয়া।
মাঠের কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত এসেছে সভায়। বিসিবির অধীনে কর্মরত আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের চুক্তির মেয়াদ গত ৩০ এপ্রিল শেষ হয়ে গিয়েছিল।
নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার আগে তাদের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আরও তিন মাস বৃদ্ধি করার অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। এর ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটের চলমান কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/জেডি