মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত একটি শক্তিশালী মানবপাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ‘গ্যাং শফিক’ নামে পরিচিত এই চক্রটির আস্তানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুত্রজায়ায় অবস্থিত সদর দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট শাখার সদস্যরা অবৈধ প্রবাসীদের ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করেন। ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর ২টার দিকে সেলাঙ্গর রাজ্যের পেটালিংজায়া এলাকার একটি দোকানঘর সংলগ্ন বাড়িতে পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৯ জন বাংলাদেশি পুরুষকে উদ্ধার করা হয়, যাদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছিল।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তিরা প্রায় দুই দিন আগে প্রতিবেশী একটি দেশ হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। একই অভিযানে সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে কাজ করা আরও দুই বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে, যারা মূলত ট্রানজিট বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও পাচারের সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছিলেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সক্রিয় এই চক্রটি তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় ঢোকাত। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশের ভেতরে নিয়ে আসার পর প্রথমে লেম্বাহ ক্লাং এলাকায় জড়ো করা হতো এবং পরে সেখান থেকে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হতো।
এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি প্রবাসীর কাছ থেকে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ আদায় করত সিন্ডিকেটটি। ধারণা করা হচ্ছে, গত কয়েক মাসে এই চক্রটি অবৈধভাবে প্রায় ১৬ লাখ রিঙ্গিত আয় করেছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপসোম) অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইন, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
দেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সরকারের ‘মাদানি’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/টএইচ